সেপ্টেম্বরে বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেল রফতানি, শীর্ষে সৌদি আরব

কেপলারের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, ইউএই, ইরাক, ওমান, কাতার, কুয়েত ও ইরান অন্তর্ভুক্ত। তবে রফতানি বাড়লেও তা এখনো যুদ্ধ পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফেরেনি। ফেব্রুয়ারিতে এসব দেশ থেকে দৈনিক ১ কোটি ৯৫ লাখ ১৩ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করা হয়েছিল। অর্থাৎ বর্তমান রফতানি ফেব্রুয়ারির তুলনায় দৈনিক প্রায় ৩২ লাখ ব্যারেল কম।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উত্তোলনকারী দেশগুলো থেকে বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি। জ্বালানিবিষয়ক বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা কেপলারের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এ প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রেখেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। সেপ্টেম্বরে অঞ্চলটি থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ৬৩ লাখ ২৮ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর এটাই সর্বোচ্চ রফতানি। খবর রয়টার্স।

কেপলারের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, ইউএই, ইরাক, ওমান, কাতার, কুয়েত ও ইরান অন্তর্ভুক্ত। তবে রফতানি বাড়লেও তা এখনো যুদ্ধ পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফেরেনি। ফেব্রুয়ারিতে এসব দেশ থেকে দৈনিক ১ কোটি ৯৫ লাখ ১৩ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করা হয়েছিল। অর্থাৎ বর্তমান রফতানি ফেব্রুয়ারির তুলনায় দৈনিক প্রায় ৩২ লাখ ব্যারেল কম।

কেপলারের হিসাবে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বর্তমানে জ্বালানি তেল রফতানি যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের ৮০ শতাংশেরও কিছুটা কম। এ হিসাবের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেলও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি ওমান উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর, হরমুজ প্রণালির বাইরে ইউএইর ফুজাইরাহ ও ওমানের টার্মিনাল থেকে পাঠানো জ্বালানি তেল এবং লোহিত সাগর দিয়ে পাঠানো জ্বালানি তেলও রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সেপ্টেম্বরে তেল রফতানি দৈনিক প্রায় ৯৭ লাখ ১৯ হাজার ব্যারেলে পৌঁছানোর কথা। সম্প্রতি এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মোট জ্বালানি তেল রফতানিও বেড়েছে। রফতানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সৌদি আরবের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বরে দেশটি দৈনিক প্রায় ৫৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করতে পারে বলে কেপলার উল্লেখ করেছে। আগস্টে দেশটির রফতানি ছিল দৈনিক ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ব্যারেল। সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকেও তেল রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এ বন্দর থেকে দৈনিক প্রায় ৩২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল পাঠানো হয়েছে। আগস্টে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ৯ লাখ ২৯ হাজার ব্যারেল। তবে ফেব্রুয়ারির ৬৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেলের তুলনায় এটি এখনো অনেক কম।

লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে যাওয়া সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি কিছু জ্বালানি তেল রফতানি বিকল্প পথে সরিয়ে নেয়।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সৌদি আরবের তেলবোঝাই ১৯টি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে তেল ছিল। তবে যেসব জাহাজ রাডার কিংবা অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ রেখে প্রণালি পার হয়েছে, সেগুলো এ হিসাবের মধ্যে নেই।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। এর মধ্যে তেলবাহী ও গ্যাসবাহী জাহাজ ছাড়াও বাল্ক ও কনটেইনার জাহাজ ছিল। বিশ্বের দৈনিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

আরও