জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (আইটিআইআইইউ) বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৭৮৮টি কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের মামলা তদন্ত করছে। পাশাপাশি কার্যক্রম শুরুর মাত্র সাত মাসে (ডিসেম্বর-জুন) বিশেষায়িত এ গোয়েন্দা ইউনিট ১৮৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়কর নথি যাচাই ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর মাধ্যমে ১ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকার কর ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এনবিআর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আয়কর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন শ্রেণীর করদাতা তথা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৭৮৮টি কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার মামলা তদন্ত করছে আইটিআইআইইউ। এর মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, অভিনয়শিল্পী, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, শিক্ষক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এর কর্মকর্তা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব পর্যায়ের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এনবিআরের অধীনে থাকা ৪১টি কর অঞ্চলের প্রতিটি থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন আয়কর নথির বিষয়ে কর ফাঁকি তদন্ত ও আদায় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলার করদাতারাও আইটিআইআইইউর তদন্ত কার্যক্রমের আওতায় রয়েছেন। ভবিষ্যতে আয়কর বিভাগের সব সার্কেলের কর ফাঁকি দেয়া করদাতাদের তদন্তের আওতায় আনা হবে।
আয়কর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরো জানান, নবগঠিত আইটিআইআইইউ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সাত মাসে গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভিত্তিতে ১৮৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকির প্রাথমিক তদন্তে ১ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করেছে। এর মধ্যে ৬৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২৩১টি এ-চালানের মাধ্যমে ১১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকির বিরুদ্ধে আইটিআইআইইউ গোয়েন্দা ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এয়ার টিকিট সিন্ডিকেট, পরিবহন ব্যবসায়ী, শেয়ারবাজার, আমদানি ও মজুদকারী, চালান জালিয়াতকারী, জুয়াড়ি, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনকারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার করদাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গৃহীত কার্যক্রমের ফলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও জনদুর্ভোগ হ্রাস পেয়েছে।
আইটিআইআইইউর কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রকিব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের আহ্বান থাকবে করদাতারা যেন সঠিকভাবে হিসাব করে কর পরিশোধ করেন। তারা যেন কর ফাঁকি না দেন, আইন পালনে সচেষ্ট থাকেন।’
জনবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কর পরিদর্শক ৭২ জনের স্থলে ২৯ জন রয়েছে। এছাড়া বাকি পদগুলোয় যথেষ্ট জনবল রয়েছে।’