টেকসই কৃষি নিয়ে নেসলের নীরবতার জন্য দায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প!

টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে অনেকটাই নীরব অবস্থান ধরে রেখেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নেসলে।

টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে অনেকটাই নীরব অবস্থান ধরে রেখেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নেসলে। এ নীরবতার জন্য আংশিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়ী বলে দাবি করেছেন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী ফিলিপ নাভরাতিল। কারণ হিসেবে তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত উৎকণ্ঠাকে ‘প্রতারণা’ অভিহিত করে একের পর এক পরিবেশগত বিধিনিষেধ বাতিল করেছেন ট্রাম্প। খবর এফটি।

নেসলের কর্মীদের জন্য আয়োজিত এক অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠানে গত মাসে অংশ নেন ফিলিপ নাভরাতিল। সেখানে তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন ইস্যুতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্য কোম্পানিটি আরো সোচ্চার হতে না পারা খানিকটা দুঃখজনক।’

এরপর নেসলের প্রধান জানান, এক্ষেত্রে তার নিজের দায় আছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও দায়ী।

ফিলিপ নাভরাতিল বলেন, ‘পাঁচ বা তিন বছর আগেও আপনি যদি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দেখা করতেন, তাহলে টেকসই উন্নয়ন নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন আসত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বিষয়টি যেন পুরোপুরি এজেন্ডা থেকেই সরে গেছে। আমি যত বিনিয়োগকারী বৈঠক করেছি, সেখানে সম্ভবত একজনই শুধু এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছে।’

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে শুল্কনীতি ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এসব বিষয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা নিয়ে এখন বেশি সতর্ক করপোরেট নেতারা।

হোয়াইট হাউজে ফিরে দ্রুত একাধিক পরিবেশ সুরক্ষানীতি বাতিল করেন ট্রাম্প এবং দেশটিকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে দেয়া এক ভাষণে কার্বন ফুটপ্রিন্ট ধারণাটিকে ‘একটি প্রতারণা’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। চলতি মাসে ইউএন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি) থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন তিনি, যা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু চুক্তি হিসেবে পরিচিত।

নেসলের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। এখানকার ১১২টি স্থাপনায় প্রায় ৩৬ হাজার কর্মী কাজ করেন। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটি আয় করেছে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

কোম্পানির সিইও হিসেবে গত সেপ্টেম্বরে নিয়োগ পান ফিলিপ নাভরাতিল। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, টেকসই উন্নয়নের ওপর মনোযোগ না দেয়া বড় একটি ভুল।’

কর্মীদের আশ্বস্ত করে ফিলিপ নাভরাতিল জানান, নেসলে এখনো নিট জিরো কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য থেকে সরে আসিনি। কিন্তু আমাদের এ নিয়ে আরো বেশি কথা বলতে হবে।’

নেসলের এক মুখপাত্র বলেন, ‘সরবরাহ চেইনে স্থিতিশীলতা ও কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং খাদ্যের দাম সহনীয় রাখতে টেকসই কৃষিচর্চা এগিয়ে নেয়া জরুরি। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনেরও অভিন্ন অগ্রাধিকার রয়েছে।’

২০৫০ সাল নাগাদ নিট জিরো কার্বন নিঃসরণে পৌঁছনোর অঙ্গীকার করেছে নেসলে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০১৮ সালের তুলনায় নিঃসরণ ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে কোম্পানিটি ২০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হয়েছে।

গত কয়েক বছরে বিপি ও কোকা-কোলাসহ একাধিক বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান পরিবেশগত লক্ষ্য কমিয়েছে বা শিথিল করেছে। কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইএসজি হিসেবে সংক্ষেপে পরিচিত পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসনবিষয়ক আন্দোলনের গতি এখন অনেকটাই কমে গেছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য ধরে রাখলেও এসব বিষয় নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে গ্রিনহাশিং।

গত সপ্তাহে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যমান হারে উষ্ণায়ন অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা পূর্বাভাসের এক দশকেরও বেশি আগে অতিক্রম করবে।

নেসলে বলছে, ইএসজি বিষয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও তারা কয়েকটি উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে। যেমন দুগ্ধ খাতের কার্বন নিঃসরণ হ্রাসসংক্রান্ত জোট ডেইরি মিথেন অ্যাকশন অ্যালায়েন্সের সঙ্গে কোম্পানিটি এখন আর যুক্ত নয়।

আরও