ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ শুরু ২০৩০ সালের পর

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানান, ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে এগুলো সরবরাহ করা হতে পারে।

ইউক্রেনের কাছে ২১০ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এ অনুমোদনের কথা জানায়। এর আওতায় ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করা হবে। দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তবে অনুমোদন পেলেও দ্রুত এসব ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পাচ্ছে না ইউক্রেন। কারণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো তৈরি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানান, ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে এগুলো সরবরাহ করা হতে পারে। ফলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবেলায় ইউক্রেনকে অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েক বছর।

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সামরিক বাহিনী প্রতিনিয়ত ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচিত। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরো ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে আসছে কিয়েভ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সোমবার জানান, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুমোদন পেতে প্রায় এক মাস ধরে অপেক্ষা করছে তার দেশ। এ সময় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অর্থ আসবে কয়েকটি মিত্রদেশ থেকে। কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ে এক্ষেত্রে সহায়তা দেবে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইউক্রেন সহায়তা ঋণের আওতায় পাওয়া জাতীয় তহবিল থেকেও অর্থ ব্যবহার করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাম্পস্টার্ট’ কর্মসূচির আওতায় এ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অর্থের জোগান দেবে মিত্রদেশগুলো। রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এ কর্মসূচি চালু করা হয়।

এর মাধ্যমে মিত্রদেশগুলোর দেয়া অর্থে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ কেনা হয়। গত আগস্টেও এ কর্মসূচির আওতায় ৮২৫ মিলিয়ন ডলারে ৩ হাজার ৩৫০টি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হয়েছিল। এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে জোন ফাইভ টেকনোলজিস ও কোঅ্যাসপায়ার।

আরও