বারো শতকের শেষ দিকে এর কার্যক্রম শুরু হয় এবং টানা প্রায় ৭০০ বছর ধরে এখানে বাণিজ্যিকভাবে লবণ উত্তোলন করা হয়েছে। এরপর ১৯৯৬ সালে লবণ উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেলেও খনিটি পরিত্যক্ত হয়নি। বরং এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। তবে বর্তমানে এটি একটি সফল ব্যবসায়িক কাঠামোয় রূপান্তরিত হয়েছে, যা ১৯৭৮ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা পায়।
খনির বিশালতা ও পর্যটন খাত
মাটির নিচে ১ হাজার ৭৩ ফুট (প্রায় ৩৩০ মিটার) গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত খনিটি নয়টি স্তরে বিভক্ত। এর সুড়ঙ্গগুলোর দৈর্ঘ্য ১৫০ মাইলেরও বেশি। বর্তমানে খনিটির ২ শতাংশ এলাকা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত আছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় নয় হাজার দর্শনার্থী এ খনিতে প্রবেশ করে। পর্যটকদের জন্য এখানে দুই ধরনের পথ রয়েছে: একটি ২ ঘণ্টার সাধারণ ‘ট্যুরিস্ট রুট’ এবং অন্যটি ৩ ঘণ্টার দুঃসাহসিক ‘মাইনার্স রুট’। দর্শনার্থীরা ৩৪০টি ধাপ নিচে নেমে বা লিফটে করে খনির ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে রয়েছে লবণের তৈরি বিশালকার ঝাড়বাতি, কারুকার্যখচিত দেয়াল ও অসংখ্য ভাস্কর্য।
ঐতিহাসিক ও রাজকীয় গুরুত্ব
চতুর্দশ শতাব্দীতে রাজা ক্যাসিমির দ্য গ্রেটের শাসনামলে খনিটি রাজকীয় সম্পদে পরিণত হয়। ওই সময় রাজকীয় কোষাগারের আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসত এ খনির প্রাপ্ত রাজস্ব থেকে, যা পোল্যান্ডের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে অর্থায়ন করেছিল। পনেরো শতাব্দীর শেষ নাগাদ এখান থেকে বার্ষিক সাত-আট হাজার টন লবণ উৎপাদন হতো।
বহুমুখী ব্যবহার ও বর্তমান অবস্থা
ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি খনির একটি অন্ধকার অধ্যায়ও রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনী এটিকে একটি ভূগর্ভস্থ বিমান যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় রূপান্তরিত করেছিল। বর্তমানে খনি থেকে সরাসরি উত্তোলন বন্ধ থাকলেও জমা হওয়া লবণাক্ত পানি শুকিয়ে বার্ষিক ১০ হাজার টনের বেশি লবণ উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া খনির ভেতরে একটি ওয়েলনেস সেন্টার এবং সেন্ট কিঙ্গা’স চ্যাপেল নামক একটি ভূগর্ভস্থ গির্জা রয়েছে। এখানে নিয়মিত প্রার্থনা ও বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
প্রযুক্তি ও ইতিহাসের সমন্বয়ে উইলিচকা লবণ খনিটি আজ কেবল একটি শিল্প ধ্বংসাবশেষ নয়, বরং পোল্যান্ডের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।—খবর ও ছবি সিএনএন