বাংলাদেশের চিংড়ি খাতের টেকসই রপ্তানি সম্প্রসারণে অংশীজনদের নিয়ে সভা করেছে মহেশখালী ইনটিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)। সভায় বাণিজ্যিক চিংড়ি উৎপাদনের জন্য একটি বিশেষায়িত ‘শ্রিম্প ইকোনমিক জোন’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
রোববার (৩ মে) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিডা’র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। এতে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিল্প সংগঠন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, দেশের মৎস্য খাতের মধ্যে চিংড়ি এখনও প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস এবং তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে এ খাতের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি খাতের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৬ শতাংশই এসেছে চিংড়ি থেকে। এ সময়ে চিংড়ি রপ্তানি ১৯ শতাংশ বেড়ে ২৯৬ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়, যেখানে সম্মিলিত রপ্তানি আয় ছিল ৩৮৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।
মিডার নির্বাহী সদস্য তানজিম ফারুক মূল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি চীন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে প্রচলিত পদ্ধতি থেকে সরে এসে ইনডোর ও ইনটেনসিভ অ্যাকুয়াকালচারের দিকে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, কাঁচামাল রপ্তানির পরিবর্তে ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য ও ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রতি কেজি চিংড়ির আয় পাঁচ গুণ বা তারও বেশি বাড়ানো সম্ভব।
সভায় প্রস্তাবিত শ্রিম্প ইকোনমিক জোনে হ্যাচারি, ফিড মিল, ল্যাবরেটরি ও ফার্মকে কঠোর বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থার আওতায় একত্রে স্থাপনের কথা বলা হয়। সেখানে নিয়ন্ত্রিত ভ্যানামেই (হোয়াইট লেগ) চিংড়ি চাষের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মান অনুসরণ করে রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং পূর্ণ ই-ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়। লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে ৮৫ শতাংশের বেশি সারভাইভাল রেট এবং বছরে তিনটি উৎপাদন চক্র।
মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের লক্ষ্য চিংড়ি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং এটিকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে উন্নীত করা। এ লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের মতামত নিয়ে বাস্তবসম্মত সুপারিশ তৈরি করা হচ্ছে। সভায় অংশ নেয়া শিল্প প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত শ্রিম্প ইকোনমিক জোনের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। খুলনা, মহেশখালী, কক্সবাজার ও সাতক্ষীরাকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয়। পাশাপাশি ভ্যালু অ্যাডেড শিল্প, এসপিএফ হ্যাচারি, ফিড মিল স্থাপন এবং নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভা শেষে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের এ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে মিডা ও বিডা যৌথভাবে আরেকটি ওয়ার্কিং গ্রুপ বৈঠক করবে বলে জানানো হয়। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে গত ১ এপ্রিল মিডা ও বিডা বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করে চিংড়ি খাতের রপ্তানি সম্প্রসারণ ও নীতি সহায়তা নিয়ে আলোচনা করে।