সাতক্ষীরায় মসুর ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫ টাকা

দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে পণ্যটির দাম প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

নিত্যপণ্যের তালিকায় মসুর ডাল খুবই আবশ্যকীয় একটি উপাদান। সম্প্রতি সাতক্ষীরার হাটবাজারগুলোয় বেড়েছে মসুর ডালের দাম। দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে পণ্যটির দাম প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কারণে পাইকারি ও খুচরায় মসুর ডালের দাম বেড়েছে।

ভোমরা স্থলবন্দরের কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখার তথ্যানুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বন্দর দিয়ে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ৯৯ টন, যার মূল্য ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তবে গত অর্থবছরের একই সময় কোনো ধরনের মসুর ডাল আমদানি হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ভোমরা বন্দরের কৃষিজাত পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার জানান, ভারতের বাজারে মসুর ডালের দাম বেড়েছে। ফলে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যটির আমদানি কমেছে তার প্রতিষ্ঠানে। অনেকে আবার লোকসান এড়াতে পণ্যটির আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

এদিকে সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারের মুদি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফতেমা স্টোরে গতকাল প্রতি কেজি মোটা জাতের মসুর ডাল খুচরা পর্যায়ে ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি হয়। চিকন ডাল বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৫৫ টাকায়। দুই-তিন সপ্তাহ আগেও একই ডাল যথাক্রমে ৮০ ও ১৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, বাজারে সরবরাহ ঘাটতির জন্য পাইকারিতে দাম বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও পাইকারিতে মোটা জাতের মসুর ডাল প্রতি কেজি ৭৫ টাকায় কিনতে পারলেও তা এখন কিনতে হচ্ছে ৮৫ টাকায়। একই সঙ্গে চিকন মসুর ডাল প্রতি কেজির পাইকারি দাম ছিল ১৩৫ টাকা, এখন কিনছেন ১৪২-১৪৫ টাকায়। অর্থাৎ পাইকারিতে দাম বেড়ে যাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

দাম বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলার কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বণিক বার্তাকে জানান, আমদানিনির্ভর যেকোনো পণ্যের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিলে দাম কিছুটা বাড়ে। তার পরও তদারক করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২০৮ হেক্টর জমিতে ৩৬৪ টন মসুর ডাল উৎপাদন হয়েছে, চাহিদার তুলনায় যা খুবই অপ্রতুল।

আরও