ডেটা সেন্টারের জন্য বনাঞ্চল ধ্বংস করছে গুগল ফিনল্যান্ডে ক্ষোভ

স্থানীয় অধিবাসী ও পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, ওই এলাকা থেকে নোংরা কাদাপানি গড়িয়ে কাছের একটি খালের মাধ্যমে ওলুইয়োকি নদীতে গিয়ে পড়ছে।

ফিনল্যান্ডে ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য অবৈধভাবে প্রায় চার লাখ গাছ কেটেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও পরিবেশগত উদ্বেগ। প্রয়োজনীয় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন সম্পন্ন না করেই বন উজাড় করায় গুগলের দুটি প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির লাইসেন্সিং অ্যান্ড সুপারভিশন অথরিটি (এলভিভি)।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিনল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের মুহোস শহরের কাছে ৩৩০ হেক্টর বনাঞ্চল থেকে কাটা হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ গাছ। এছাড়া ওতানম্যাকি এলাকায় আরো দেড় লাখ গাছ কাটা হয়েছে বলে ধারণা করছেন পরিবেশবাদীরা। বনাঞ্চল উজাড় করার পর জমি থেকে তুলে নেয়া হয়েছে ওপরের উর্বর মাটিও।

স্থানীয় অধিবাসী ও পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, ওই এলাকা থেকে নোংরা কাদাপানি গড়িয়ে কাছের একটি খালের মাধ্যমে ওলুইয়োকি নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় জলজ পরিবেশ ও নদী ব্যবস্থার ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে এবং নির্মাণকাজের বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ঘটনার পর গত সপ্তাহে গুগলের ফিনল্যান্ড প্রধান আন্তি ইয়ারভিনেন দুঃখ প্রকাশ করেন জানান, সে সময় প্রচলিত আইন সম্পর্কে তাদের যে ধারণা ছিল, তার ভিত্তিতেই কাজ করা হয়েছিল। ৬ অক্টোবর কর্তৃপক্ষের চিঠি পাওয়ার পর কায়ানি (ওতানম্যাকি) ও মুহোস এলাকার সব প্রাথমিক কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে এবং গুগল কর্তৃপক্ষের সব নির্দেশ মেনে চলবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের কারণে ফিনল্যান্ড আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দেশটির শীতল আবহাওয়া, ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সহজলভ্যতার সুযোগ নিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। গুগলের আলোচিত এ এআই অবকাঠামো নির্মাণে ১ হাজার ৩০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের কথা রয়েছে, যা দেশটিতে এ-যাবৎকালের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। বর্তমানে ফিনল্যান্ডে প্রায় ১৪৫টি ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা চলছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ফিনিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর নেচার কনজারভেশনের (এসএলএল) প্রতিনিধিরা বলছেন, এটি কেবল পরিবেশের ক্ষতিই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের গৌরব ও আইন না মানার মানসিকতা প্রকাশ করে। এরই মধ্যে ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ ডেটা সেন্টারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে পিটিশনে স্বাক্ষর করেছে।

হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুসি কাঙ্গাশারভু জানান, এসব কেন্দ্র মূলত আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের সেবা দেয়। ফলে কর্মসংস্থান কিছুটা বাড়লেও জাতীয় অর্থনীতি বা সাধারণ মানুষের জন্য এর সুফল খুবই সীমিত। ঘটনাটির পর ফিনল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তারা ডেটা সেন্টার খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে আইন সংশোধনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

গুগল অবশ্য মুহোসে ১৩০ হেক্টর জমিতে নতুন করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছে। তবে পরিবেশবাদীদের মতে, এতে বন উজাড়ের ক্ষতি যথাযথভাবে পূরণ হবে না।

আরও