হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব

টানা চতুর্থবারের মতো জ্বালানি তেল উৎপাদন কোটা বাড়াল ওপেক প্লাস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল বৈঠকে বসেছে জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস। সে বৈঠকে জ্বালানি তেল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। তবে যুদ্ধাবস্থার কারণে জোটের বেশ কয়েকটি সদস্যদেশ এখনই তাদের উৎপাদন বাড়াতে পারছে না বলেও জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রবাহ ব্যাপক হারে কমে গেছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে ইতিহাসের অন্যতম বড় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সৌদি আরবের মতো বড় রফতানিকারক দেশগুলো তাদের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পুরোপুরি জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে পারছে না। এ সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে।

এরই মধ্যে জোটের অভ্যন্তরীণ কাঠামোয়ও একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। ওপেক প্লাসের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রায় ৬০ বছর পর এ জোট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। দেশটির এ আকস্মিক বিদায় জোটের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে জোটের সামগ্রিক উৎপাদন কৌশল এবং সদস্য দেশগুলোর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নতুন করে নির্ধারণ করতে হয়েছে।

সরবরাহের এ ঘাটতি মেটাতে জোটের মূল সাতটি সদস্য দেশ গত তিন মাসে তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়িয়েছে। গত এপ্রিল-জুনের মধ্যে এ দেশগুলো তাদের সম্মিলিত উৎপাদন কোটা প্রতিদিন প্রায় ছয় লাখ ব্যারেল বাড়িয়েছে। গতকালের বৈঠকেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাস।

কাগজে-কলমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলেও বাস্তবে বাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। ওপেকের আনুষ্ঠানিক তথ্যানুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর রফতানি কমে যাওয়ায় জোটের প্রকৃত জ্বালানি তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জোটের দৈনিক গড় তেল উৎপাদন ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। কিন্তু এপ্রিলে তা বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে দৈনিক ৩ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে।

সূত্র জানিয়েছে, আগামী জুলাইয়ের জন্য সাতটি দেশ তাদের সম্মিলিত দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরো প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়াতে পারে। পরিমাণটি এ মাসের কোটা বৃদ্ধির সমান। এর আগে এপ্রিল ও মে মাসে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল করে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ইউএইর জোট ত্যাগের বিষয়টি সমন্বয় করতে পরবর্তী সময়ে এ পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে আনা হয়।

ওপেকের সাবেক কর্মকর্তা ও জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাডের বিশ্লেষক হোর্হে লিওন বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যকারিতা কম হলেও এটি পুনরায় খুললে বাজারে ঘাটতির বদলে উদ্বৃত্তের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মূলত ২০২৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী ওপেক প্লাস দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতেই জুলাই থেকে বাজারে বাড়তি তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে সাতটি দেশ।

আরও