দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা, কর ব্যবস্থা সহজ করা, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি। গতকাল ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ইকোনমিকস বিভাগের সহযোগিতায় এবং জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরামের (জেইএফ) উদ্যোগে জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফিনালের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এবং ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এবং ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা কেএমএ শামীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউআইইউর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নীতিনির্ধারণ ও অর্থ বিভাগের প্রতিদিনের কাজটা আসলে সারপ্রাইজ এলিমেন্ট দিয়ে ভরা—যেখানে বাজেট তৈরি হয় একটি অনুমানের ওপর, আর তারপরই আসে জ্বালানির দাম, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কিংবা বন্যার মতো ধাক্কা। বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন অনিশ্চয়তাই নতুন স্বাভাবিক রূপ নিয়েছে। বাণিজ্যে মুক্ত অর্থনীতির বদলে সংরক্ষণবাদ বাড়ছে, ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সরাসরি আমাদের বাজারদর, টাকার বিনিময় হার ও রফতানি আদেশে এসে পড়ছে।’
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সমস্যা লুকিয়ে লাভ নেই, স্বীকার করলেই সমাধান শুরু হয়। সরকারি অর্থ ব্যয়ে আমরা চারটি বাধ্যতামূলক মানদণ্ড অনুসরণ করছি—ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা। এ চার শর্ত পূরণ না করলে আমরা স্ট্রেট ফরওয়ার্ড প্রজেক্ট ফেরত দিচ্ছি, কারণ জনগণের প্রতিটি টাকার যৌক্তিকতা ও হিসাব থাকতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চাপের মুখে মানিয়ে নেয়া ও যুক্তি দিয়ে অবস্থান রক্ষা করাই একজন আসল নীতিনির্ধারকের দক্ষতা। যেকোনো নীতি কাগজের সৌন্দর্যে নয়, বরং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বাস্তবায়নযোগ্য হতে হবে। তোমরা যেখানেই যাও না কেন—সরকারে, ব্যাংকে বা ব্যবসায়—সৎ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। সততা ও মানবিকতা ছাড়া একার দক্ষতা সমাজকে কিছু দিতে পারে না; তরুণদের মনের কথা বুঝে সঙ্গে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’ সম্মানিত অতিথি হাসান মাহমুদ রাজা বলেন, ‘শিক্ষা পাঠ্যবই ও শ্রেণীকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।’
ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া বলেন, ‘ইকনথন ২০২৬’ শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তা, সমস্যা সমাধান ও ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তোলার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’ ‘ইকনথন ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২২৪টি দল নিবন্ধন করে। প্রতিযোগিতায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ‘ভিনি বিডি ভিসি’ দল গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে পেয়েছে ১ লাখ টাকা। ঢাকা ইউনিভার্সিটির ‘সেল্ড’ দল প্রথম রানার্সআপ হয়ে পেয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘ঢাকা ৯৯’ দল দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়ে পেয়েছে ৫০ হাজার টাকা। পিপলস চয়েস দল, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দল প্রত্যেকে পেয়েছে ২০ হাজার টাকা। এ আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার ছিল বণিক বার্তা।
জেইএফের উদ্যোগে গতকাল ইউআইইউতে অনুষ্ঠিত হয় ‘ইকনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফিনালের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান