উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব

বাটা সুর আয় ও মুনাফায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের আয় কমেছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের আয় কমেছে। ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এ সময়ে কোম্পানিটির মুনাফাও কমেছে। কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

তথ্য অনুসারে, চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা কমেছে ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে ১৯ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৩০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি আয় করেছে ২৬২ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৩২২ কোটি টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির আয় কমেছে ১৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। 

চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাটা সুর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৩ টাকা ৭৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২২ টাকা ১১ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৬৫ টাকা ৮ পয়সায়।

এছাড়া চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩৭ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ১৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৫২৪ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৬৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে বাটা সুর ইপিএস হয়েছে ২৭ টাকা ১৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩২ টাকা ৭ পয়সা। 

আয় ও মুনাফা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বাটা সু জানিয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনীতিতে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ব্যবসা ৪ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির উৎপাদন ব্যয় ৬ শতাংশ কমলেও পরিচালন খরচ আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়েছে।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর আগে কোম্পানিটি ৩৩০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। সব মিলিয়ে আলোচ্য হিসাব বছরে ৪৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। 

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বাটা সুর ইপিএস হয়েছে ২৯ টাকা ৩১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৯ টাকা ৯৮ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৩৭ টাকা ৯৩ পয়সায়। 

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩৬৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বাটা সুর পর্ষদ। 

১৯৮৫ সালে তালিকাভুক্ত বাটা সুর বর্তমান অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৩৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ১ দশমিক ৩০ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। ডিএসইতে গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ার ৯০১ টাকা থেকে ১ হাজার ২৫ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

আরও