বৈশ্বিক খাদ্য ও পানীয় খাতের শীর্ষ কোম্পানিটি জানিয়েছে, নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে মার্কিন ক্রেতারা খরচ অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে আগামী দিনগুলোয় মূল্যস্ফীতির চাপ আরো তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
সম্প্রতি কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশকালে এ তথ্য জানানো হয়। পেপসিকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা র্যামন লাগুয়ার্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে খাদ্য ও পানীয় খাতের ব্যবসায় মন্দা দেখা গেছে। মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষ নিজেদের বাজেট সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কোম্পানির বিক্রিতে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় দ্বিতীয় ছয় মাসে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় আরো বাড়তে পারে। বিশ্ববাজারের কিছু পরিস্থিতি এ উদ্বেগকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম পৌঁছেছে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের এ মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
অথচ বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির ব্যবসা বেশ ভালো ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ফুটবলের বড় আসর সুপার বোল উপলক্ষে পেপসিকো স্ন্যাকস বা চিপস জাতীয় পণ্যের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছিল। সে সময় বিক্রি ও আয় অনেক বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে সে সুফল পুরোপুরি ম্লান হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে উত্তর আমেরিকায় ডরিটোস ও লে’সের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের স্ন্যাকস ব্যবসায় বিক্রি অপরিবর্তিত ছিল। পাশাপাশি পণ্যে অতিরিক্ত ছাড় দেয়ায় এ খাতের আয় উল্টো কমেছে ২ শতাংশ।
তবে মার্কিন বাজারে মন্দা চললেও আন্তর্জাতিক ব্যবসার ওপর ভর করে ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে পেপসিকো। এ প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী কোম্পানির সামগ্রিক আয় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি নিট মুনাফা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রাক-বাজার লেনদেনে কিছুটা কমেছে পেপসিকোর শেয়ারের দাম।
বাজারের এ কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে পেপসিকো নিজেদের উৎপাদন খরচ কমানো এবং শুল্ক ফেরতের দাবির ওপর জোর দিচ্ছে। কোম্পানিটি আশা করছে, এ পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে বাড়তি খরচের একটি বড় অংশ পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী, পুরো বছরের জন্য আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রেখেছে পেপসিকো।