পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংক পিএলসির বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে অনুষ্ঠিতব্য সভাটি বাতিল করেছে সিটি ব্যাংক। ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি থেকে ৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব নিয়ে সভাটি আয়োজনের কথা ছিল ব্যাংকটির। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আনীত কিছু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে সভাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় আইনগত, নিয়ন্ত্রক, মূলধন, করপোরেট সুশাসন, শেয়ারহোল্ডার, চুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইজিএম-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইজিএমের জন্য নির্ধারিত ৬ সেপ্টেম্বরের রেকর্ড ডেটও বাতিল করা হয়েছে।
ইজিএমে ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি থেকে ৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা ছিল। একই সঙ্গে ব্যাংকের মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাবও ছিল।
এর আগে ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ছাড়া পরিচালকের সর্বোচ্চ সংখ্যা আট থেকে বাড়িয়ে ১০ জন করার প্রস্তাবটি আগামী ইজিএমে উপস্থাপনের কথা ছিল। তবে ব্যাংকটি পরবর্তী সময়ে এজেন্ডাটি তাদের আলোচ্যসূচি থেকে বাদ দিয়েছিল।
সম্প্রতি ব্যাংকে কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডিং এবং পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এসব পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত ইজিএমের আলোচ্যসূচি নিয়ে আরো পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখেছে সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ৪ অক্টোবরের সভা বাতিল করা হয়েছে।
তবে ইজিএম বাতিল হলেও অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর মূল প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়নি বলে জানিয়েছে সিটি ব্যাংক। তবে ব্যাংকটি জানিয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন কোনো ইজিএম আহ্বান করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে নতুন করে ইজিএম আয়োজনের প্রয়োজন মনে করলে প্রযোজ্য করপোরেট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সভার তারিখ, রেকর্ড ডেট ও আলোচ্যসূচি অনুমোদন করা হবে।
এদিকে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি দাখিল করবে সিটি ব্যাংক। পাশাপাশি ব্যাংকের করপোরেট রেকর্ড ও যোগাযোগের মাধ্যমগুলোও হালনাগাদ করা হবে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) সিটি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ১ পয়সা, যেখানে এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৭২ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ৬০ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে সিটি ব্যাংকের পর্ষদ। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৭১ পয়সা, এর আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৬৭ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা ৬৭ পয়সায়।