যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালনি তেলের মজুদ গত সপ্তাহে অপ্রত্যাশিতভাবে ১ কোটি ৭৪ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। রফতানি কমে যাওয়া এবং বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বাড়ায় মজুদে এ বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। খবর রয়টার্স ও হেলেনিক শিপিং নিউজ।
সম্প্রতি প্রকাশিত দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যানুযায়ী, ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে কৌশলগত রিজার্ভ বাদে জ্বালানি তেলের মজুদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ৪৪ লাখ ব্যারেলে। গত ৫ জুনের পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ মজুদ। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর এটি সাপ্তাহিক জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় মজুদ বৃদ্ধির ঘটনাও।
এমন প্রবৃদ্ধিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জ্বালানি তেলের বাজারের বিশ্লেষকরা। সপ্তাহের শুরুতে বাজার বিশ্লেষকদের এক জরিপে ধারণা করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল কমতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
ইআইএর তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবাহে পরিবর্তনের কারণেই মূলত এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি কমে দৈনিক ৩০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে। ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর এটিই দেশটির সর্বনিম্ন রফতানি। মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা শুরুর পরও এটি সর্বনিম্ন রফতানি। ওই সময় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বেড়েছে দৈনিক ১৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। এতে আমদানির পরিমাণ ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চে পৌঁছায়। কানাডা ও ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল আসার পরিমাণও কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে রয়েছে। বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ মার্কিন বন্দরে এসে পৌঁছানোয় এবং সেগুলো থেকে তেল খালাসের কারণেও মজুদ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল জ্বালানি তেল সরবরাহকেন্দ্র মেক্সিকোর উপসাগরীয় অঞ্চলে মজুদ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া ওকলাহোমার কুশিংয়ের ডেলিভারি হাবেও তেলের মজুদ বেড়েছে ১৬ লাখ ব্যারেল।
এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়লেও শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম প্রায় স্বাভাবিক ছিল। গত সপ্তাহে শোধনাগারগুলোতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের পরিমাণ বেড়েছে দৈনিক ২৬ হাজার ব্যারেল। তবে শোধনাগার ব্যবহারের হার দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৯৬ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে কমেছে পরিশোধিত জ্বালানির মজুদ। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের মজুদ ১০ লাখ ব্যারেল কমে ২০ কোটি ৮৭ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। ডিজেল ও জ্বালানি তেলের মজুদও ১০ হাজার ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
ইআইএর প্রতিবেদন প্রকাশের পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রথমে কমে গেলেও পরে অবশ্য কিছুটা স্থির হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, জাহাজ চলাচলে সাময়িক বিলম্ব এবং তেলবাহী জাহাজ থেকে তেল খালাসের সময়সূচির কারণে এবারের মজুদ বৃদ্ধির পরিমাণ অস্বাভাবিক হতে পারে। তবে বাজার দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক পরিস্থিতির দিকেই বেশি নজর রাখবে।