ইউএসডিএর প্রতিবেদন

২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী বাড়তে পারে গম উৎপাদন

বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন ২০২৫-২৬ মৌসুমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়তে পারে। ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রিকালচারাল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেট (ডব্লিউএএসডিই) শীর্ষক প্রতিবেদনের ডিসেম্বর সংস্করণে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)।

বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন ২০২৫-২৬ মৌসুমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়তে পারে। ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রিকালচারাল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেট (ডব্লিউএএসডিই) শীর্ষক প্রতিবেদনের ডিসেম্বর সংস্করণে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন হতে পারে ৮৩ কোটি ৭৮ লাখ ১০ হাজার টন। এটি আগের দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ৮৯ লাখ ২০ হাজার টন বেশি।

প্রতিবেদনে ইউএসডিএ আরো জানায়, চলতি মৌসুমে বিশ্বব্যাপী গমের মোট সরবরাহ আগের দেয়া প্রাক্কলনের তুলনায় ৭৫ লাখ টন বেড়ে ১০৯ কোটি ৭৮ লাখ টনে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সরবরাহ বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা রাখবে প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় উৎপাদন বৃদ্ধি।

বিশ্বে প্রধান গম সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম কানাডা। চলতি মৌসুমে দেশটিতে খাদ্যশস্যটির উৎপাদন তিন লাখ টন বেড়ে রেকর্ড চার কোটি টনে পৌঁছতে পারে।

এছাড়া অনুকূল আবহাওয়ার প্রভাবে চলতি মৌসুমে আর্জেন্টিনায় গম উৎপাদন ২০ লাখ টন বেড়ে ২ কোটি ৪০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ায় উৎপাদন আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় এক লাখ টন বেড়ে যথাক্রমে ৩ কোটি ৭০ লাখ ও ৮ কোটি ৭৫ লাখ টনে পৌঁছবে।

এর আগে কনসালট্যান্সি ফার্ম আইকেএআর ২০২৫ সালে রাশিয়ার গম উৎপাদনের পূর্বাভাস পাঁচ লাখ টন বাড়িয়ে ৮ কোটি ৮৫ লাখ টনে উন্নীত করে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালে দেশটিতে ৮ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৯ কোটি ১০ লাখ টন গম উৎপাদন হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ দিয়েছে সংস্থাটি।

সভেকন কনসালট্যান্সি জানিয়েছে, উত্তর গোলার্ধের বেশির ভাগ দেশে শীতকালীন বপন প্রায় শেষের দিকে। সামগ্রিক ফসলের সম্ভাবনাও স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় ভালো। এছাড়া রাশিয়ায় শীতকালীন গম উৎপাদনের জন্য আবহাওয়া অনুকূল রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে মাটির আর্দ্রতা বেড়েছে, যা উৎপাদন বাড়ার জন্য সহায়ক।

ইউএসডিএ জানায়, পশুখাদ্য খাতে বিভিন্ন দেশে গমের চাহিদা বাড়ছে। এর প্রভাবে ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী গমের ব্যবহার ৮২ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ৪১ লাখ টন বেশি।

বিশ্বব্যাপী গমের আমদানি-রফতানিও চলতি মৌসুমে আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ১৫ লাখ টন বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২৫-২৫ মৌসুমে তুরস্ক ও ইউক্রেন থেকে গম রফতানি কমে যেতে পারে। তবে এ হ্রাসের প্রভাব ছাড়িয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও আর্জেন্টিনার রফতানি বৃদ্ধি। এ সময় বিশ্বব্যাপী গমের মোট আমদানি-রফতানির পরিমাণ হতে পারে ২১ কোটি ৮৭ লাখ টন।

ইউএসডিএ আরো জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী গমের সমাপনী মজুদ ৩৪ লাখ টন বেড়ে ২৭ কোটি ৪৯ লাখ টনে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও