অপরিশোধিত জ্বালানি তেল

অক্টোবরে উত্তোলন কোটা অপরিবর্তিত রাখছে ওপেক প্লাস

গত কয়েক মাস ধরে ধাপে ধাপে তেল উত্তোলন কোটা বাড়িয়েছে ওপেক প্লাস। সেপ্টেম্বরের জন্য দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় জোটটি। এর আগের তিন মাসেও একই পরিমাণ কোটা বাড়ানো হয়। এপ্রিল ও মে মাসে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল করে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে বছরের প্রথম তিন মাস উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে বেড়েছে অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে অক্টোবরে তেল উত্তোলনের কোটা অপরিবর্তিত রাখছে ওপেক প্লাস। টানা ছয় মাস উত্তোলন বাড়ানোর পর গত রোববার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় জোটের প্রভাবশালী সাত সদস্য। খবর রয়টার্স ও দ্য ন্যাশনাল।

অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেয় সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান। এক বিবৃতিতে ওপেক প্লাস জানায়, সংস্থাটি জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। আগামী ৪ অক্টোবর আবার বৈঠকে বসবে দেশগুলো।

গত কয়েক মাস ধরে ধাপে ধাপে তেল উত্তোলন কোটা বাড়িয়েছে ওপেক প্লাস। সেপ্টেম্বরের জন্য দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় জোটটি। এর আগের তিন মাসেও একই পরিমাণ কোটা বাড়ানো হয়। এপ্রিল ও মে মাসে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল করে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে বছরের প্রথম তিন মাস উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়।

২০২৩ সালে ওপেক প্লাস দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ধাপে ধাপে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলকারী দেশগুলোর জোটটি। অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও দৈনিক আরো ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী তেল উত্তোলন করতে পারছে না জোটের অনেক সদস্য। ফলে কাগজে-কলমে উত্তোলন বাড়ানোর ঘোষণা থাকলেও বিশ্ববাজারে সরবরাহ খুব বেশি বাড়ছে না।

এর মধ্যে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির জর্জ লিওন বলেন, ‘বর্তমানে প্রকৃত তেলবাজারে ওপেক প্লাসের প্রভাব খুবই সীমিত। জোটটি উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তন করতে পারে। তবে সেই পরিমাণ জ্বালানি তেল সত্যিই উত্তোলিত হবে বা বাজারে পৌঁছাবে, তা নিশ্চত করতে পারছে না।’

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দামেও বেশ ওঠানামা হয়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে একপর্যায়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে উঠে যায়। পরে শান্তি আলোচনার খবরে দাম কমে। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে আবার বেড়েছে উদ্বেগ।

গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক লেনদেনে অপরিশোধিত জ্বলানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ১৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেলে হয়েছে ৯১ ডলার ৩ সেন্ট।

এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও কমে গেছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজ এ নৌপথ পার হতো। এখন সেই সংখ্যা অনেক কম।

ওপেক প্লাসের সামনে এখন ২০২৭ সালের উত্তোলন পরিকল্পনা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রয়েছে। জোটের অধিকাংশ সদস্যের ওপর ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত আরো এক স্তরের উত্তোলন কোটা কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে। তা তুলে নেয়ার আগে সদস্যদেশগুলোর প্রকৃত উত্তোলন সক্ষমতা পর্যালোচনা করা হবে। এরপর ২০২৭ সালের জন্য নতুন উৎপাদন কোটা নির্ধারণ করা হবে।

চলতি বছরের শেষ দিকে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তাই বছরের শেষ তিন মাসে উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত ওপেক প্লাসের নজর তেলবাজারের অস্থিরতা সামলানোর পাশাপাশি ২০২৭ সালের উৎপাদন পরিকল্পনার দিকে বলে মনে করছেন জ্বালানিখাত সংশ্লিষ্টরা।

আরও