বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে রয়েছে। যেহেতু দেশটি একক খাতের রফতানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, তাই বৈচিত্র্যকরণ অপরিহার্য। আমরা এলডিসি থেকে উত্তরণ হই বা না হই, আমাদের অবশ্যই রফতানি বৈচিত্র্য আনতে হবে। উত্তরণের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে অবশ্যই ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’
বুধবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর মতিঝিলে ‘বাংলাদেশের রফতানি খাতের বৈচিত্র্য: স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটি আয়োজন করে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কেলে দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে চলে গেছে। এখন তো দেশ থেকে এ পরিমাণ টাকা চুরি হচ্ছে না। কিন্তু দুর্নীতি শেষ হয়ে যায়নি; দুর্নীতি শেষ হওয়া কঠিন। আমরা যেটা করতে পারি, তা হলো দুর্নীতির পথকে আমরা দুরূহ করে তুলতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু পণ্য ছাড়া বাজারে এখন স্বস্তি রয়েছে। অস্বস্তির পেছনে মূল সমস্যা ছিল সরবরাহ। এখানে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে ট্যারিফ কমিশন, এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিংবা ভোক্তা অধিকার—সবাই একসঙ্গে কাজ করেছে এবং কিছুটা সফলতা নিয়ে এসেছে। চালের মূল্যে এ মুহূর্তে আমরা একটা সমস্যা দেখতে পারছি। মূল্যস্ফীতি সূচকে চাল অন্যতম। আমরা চালের সরবরাহ চেইন উন্নত করতে কাজ করছি।’
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আমরা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা হারাব। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছি। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনসহ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো দেশ আমাদের বন্ধু নয়, সবাই প্রতিযোগী। এটা মেনে নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। চ্যালেঞ্জের তুলনায় সামনে সুযোগ অনেক বড়। একসঙ্গে কাজ করতে পারলে সে সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশকে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে, তার মধ্যে অন্যতম হলো পণ্য বৈচিত্র্যকরণ। এক্ষেত্রে কোন কোন পণ্য ও খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন, তা খুঁজে বের করে অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মইনুল খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম মাশরুর রিয়াজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, বিপিজিএমইএ’র সভাপতি শামীম আহমেদ, বিজেএমএ’র সদস্য ও ক্রিয়েটিং কানেকশনের স্বত্বাধিকারী মাশরেকা বিনতে মোশাররফসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা।