সম্প্রতি দেশটির অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্ববাজারে যখন বড় অর্থনীতির অন্য দেশগুলো শিল্প উৎপাদন হ্রাস ও দুর্বল চাহিদার মুখোমুখি হচ্ছে, তখন ভারতের ইস্পাত খাত বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান ও প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য বিজনেসলাইন।
সংস্থাটির সর্বশেষ ‘গ্লোবাল স্টিল: দ্য স্টিল মার্কেট ব্যারোমিটার-মে আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে ভারতের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন বার্ষিক ভিত্তিতে ১১ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে উৎপাদন ছিল ১০ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৭ শতাংশ। এ ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বিশ্ববাজারে ইস্পাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা ও উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে ভারতের উত্থানকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রতিবেদনে ভারতের এ শক্তিশালী সক্ষমতার সঙ্গে অন্য দেশের মন্দার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপান ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন যথাক্রমে ৪ ও ৩ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদক দেশ চীন ক্রমাগত উৎপাদন সংকটের মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের মে মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে চীনের ইস্পাত উৎপাদন ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, চীনের দীর্ঘমেয়াদি ইস্পাত উৎপাদনক্ষমতা কমানোর পরিকল্পনা থাকলেও চলতি বছর তা বাস্তবায়নের গতি ধীর হয়ে গেছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে এ ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, দ্রুত নগরায়ণ, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের সম্প্রসারণ, গাড়ি উৎপাদন বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের কারণে দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক ইস্পাত চাহিদার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভারতকে প্রতিষ্ঠিত করছে।