চিকিৎসা ব্যয় জোগাতে খাদ্যের খরচ কমায় এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকান

দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার আকাশচুম্বী খরচের চাপে দিশেহারা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ।

ওয়েস্ট হেলথ-গ্যালাপ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে এমন চিত্র। গবেষণা বলছে, গত বছর দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার খরচ মেটাতে খাদ্য, ইউটিলিটি বিল কিংবা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতের খরচ কমাতে বাধ্য হয়েছে। খবর রয়টার্স।

ওয়েস্ট হেলথ-গ্যালাপ সেন্টার জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুন-আগস্ট পর্যন্ত ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়াজুড়ে প্রায় ২০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়। জরিপের তথ্যানুযায়ী, ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন তারা চিকিৎসাসেবার খরচ জোগাতে দৈনন্দিন জীবনে অন্তত একটি বড় খরচ আপস করতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষ করে যাদের স্বাস্থ্যবীমা নেই তাদের ক্ষেত্রে এ সংকট সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। জরিপে বীমা সুবিধার বাইরে থাকা ৬২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে, চিকিৎসাসেবার অর্থ জোগাড় করতে তাদের বিভিন্ন ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ শতাংশকে ধারদেনা করতে হয়েছে এবং ২৪ শতাংশ মানুষ নিয়মিত ওষুধ সেবনের সময়কাল দীর্ঘায়িত করতে বাধ্য হয়েছে। তবে যারা স্বাস্থ্যবীমার আওতাভুক্ত তাদের ক্ষেত্রেও এ পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি নেই। তাদের মধ্যেও প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মেটাতে অন্যান্য খরচ কাটছাঁট করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে এসে অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবীমার প্রিমিয়াম ও পকেট থেকে দেয়া খরচ বৃদ্ধির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে যারা সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ (এসিএ) পরিকল্পনার আওতায় আছে, কভিড মহামারীকালীন বিশেষ ভর্তুকি শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের আর্থিক সংকট আরো বেড়েছে।

হেলথ অ্যান্ড এজিং নিয়ে কাজ করা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট হেলথ পলিসি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট টিমোথি ল্যাশ বলেন, ‘আমরা দেখছি যে সমাজে মেটাবলিক রোগ, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঘটনা বাড়ছে। সামগ্রিকভাবে জাতি হিসেবে আমরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছি, আর তার ওপর স্বাস্থ্যসেবার খরচ আকাশচুম্বী হয়ে উঠছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যসেবার উচ্চমূল্যের প্রভাব কেবল দৈনন্দিন খরচে সীমাবদ্ধ নেই, এটি মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়ও প্রভাব ফেলছে।

অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত অন্য একটি জরিপে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসেবার খরচের কারণে অনেকে নতুন বাড়ি কেনা বা ছুটি কাটানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত করেছেন। এমনকি ৯ শতাংশ মানুষ তাদের অবসরের সময় পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে ও তাদের দ্বিগুণ সংখ্যক মানুষ পেশা পরিবর্তনের পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছে।

আরও