প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৫ সালের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হবে। আগামী কয়েক বছর ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে বার্ষিক ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হতে পারে।
ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে নতুন ধরনের নকশা এ প্রবৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি হতে পারে বলে জানান ওমডিয়ার বিশ্লেষকরা। প্রচলিত বইয়ের মতো ভাঁজ করা ফোনের পাশাপাশি এখন অপেক্ষাকৃত চওড়া ও কম উচ্চতার নতুন নকশা বাজারে আসছে। ভাঁজ খোলার পর এসব ফোন দেখতে অনেকটা ট্যাবলেটের মতো হয়। এতে বড় পর্দায় একসঙ্গে একাধিক কাজ করা, ভিডিও দেখা ও কাজ করার সুবিধা পাওয়া যায়।
ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক জেকার লি বলেন, ‘সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যেও ফোল্ডেবল ফোন প্রযুক্তি খাতের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। হুয়াওয়ে ২০২৬ সালের মে মাসে পিউরা এক্স ম্যাক্স মডেলের মাধ্যমে নতুন চওড়া নকশার ফোন বাজারে আনে। এরপর আগস্টে স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ নিয়ে আসে।
আগামী কয়েক মাসে আরো কয়েকটি বড় ব্র্যান্ড একই ধরনের ফোন বাজারে আনতে পারে।’
নতুন নকশার ফোল্ডেবল ফোনে ভাঁজ খোলার পর পর্দার আকার অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত হয়। এতে ফোনটি অনেকটা ট্যাবলেটের মতো ব্যবহার করা যায়। প্রচলিত বইয়ের মতো ফোল্ডেবল ফোনের তুলনায় এর আকার ও ওজন কিছুটা কম রাখার সুযোগ রয়েছে। ফলে বহন করাও সহজ।
তবে সামগ্রিক বাজারে এখনো কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ফোল্ডেবল ফোনের সরবরাহ ছিল ১ কোটি ৮২ লাখ ইউনিট। গত বছর বাজারটির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধির হার।
বিশেষ করে ফ্লিপ বা ওপর-নিচে ভাঁজ করা ফোনের চাহিদা কমেছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে এ ধরনের ফোনের সরবরাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে বইয়ের মতো ভাঁজ করা ফোনের বিক্রি মোটামুটি একই অবস্থায় রয়েছে।
তবে ওমডিয়া মনে করছে, ২০২৬ সাল শেষে ফোল্ডেবল ফোনের বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। চলতি বছর বিশ্বব্যাপী এ ধরনের ফোন বিক্রি ২ কোটি ২০ লাখ ইউনিট ছাড়াতে পারে। পাশাপাশি বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ২২ শতাংশের বেশি। নতুন চওড়া নকশার ফোনের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বাজারে আরো নির্মাতা যুক্ত হলে ২০২৮ সালে প্রবৃদ্ধি আরো জোরালো হতে পারে।