বিদেশী সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা ছাড়াই স্বাধীনভাবে ইএমভি মানসম্পন্ন কার্ড ইস্যু করতে পারবে দেশের ব্যাংকগুলো। ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কোনা সফটওয়্যার ল্যাব লিমিটেড প্রথমবারের মতো দেশে কার্ড পারসোনালাইজেশন সেবা চালু করেছে।
পেমেন্ট ও সিকিউরিটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কোনা সফটওয়্যার ল্যাব ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির জন্য কোনা কার্ড পারসোনালাইজেশন সিস্টেম (কোনা-সিপিএস) বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ন্যাশনাল কার্ড স্কিম ‘টাকা পে’ ছাড়াও ভিসা, মাস্টারকার্ড ও ইউনিয়নপে ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক স্কিমে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ইস্যু করতে পারবে ইসলামী ব্যাংক।
এ উপলক্ষে সম্প্রতি রাজধানীর দ্য ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকসহ শিল্পখাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দেশীয় সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের তৈরি এ সিস্টেম চালুর মাধ্যমে বিদেশী সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমবে, সময় বাঁচবে ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
কোনার প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা সিরাজ সিদ্দিকী বলেন, কোনা-সিপিএস প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ শুধু বিদেশী প্রযুক্তির ভোক্তা নয়। দেশীয় উদ্ভাবনের মাধ্যমেই এখন বিশ্বমানের সমাধান তৈরি হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, এ অর্জন দেশের ডিজিটাল পেমেন্টের ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, এ উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করেছে। একইসঙ্গে নগদবিহীন বাংলাদেশ গড়তে শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছে।
এ সময় ইসলামী ব্যাংকের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোশাররফ হোসেনও কোনা সফটওয়্যারের সমাধানের প্রভাব তুলে ধরেন।
কোনা সফটওয়্যার ল্যাব জানিয়েছে, এর ধারাবাহিকতায় কার্ড উৎপাদন কারখানা ও পারসোনালাইজেশন ব্যুরো স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন টোকেনাইজেশন সেবা চালুরও উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কোনা বর্তমানে দেশের নেক্সাসপে, নগদ ও রেইনবোসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রযুক্তিগত সমাধান দিচ্ছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির একশ’র বেশি প্রকৌশলী বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
—বিজ্ঞপ্তি