রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব স্থগিত করল জিপিএইচ ইস্পাত

তথ্য অনুযায়ী, রাইট শেয়ার ইস্যুর বিষয়ে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রকৌশল খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড প্রায় ৯৬৮ কোটি টাকার রাইট শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব স্থগিত করেছে। ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, রাইট শেয়ার ইস্যুর বিষয়ে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কোম্পানি ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবটি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ।

গত ২৫ অক্টোবর কোম্পানিটির ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভায়ও (এজিএম) পরিচালনা পর্ষদের এ সিদ্ধান্ত শেয়ারহোল্ডারদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। সেখানেও রাইট শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে জিপিএইচ ইস্পাত বিদ্যমান প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে দুটি রাইট শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব করেছিল। প্রতিটি রাইট শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ টাকা এবং এর মাধ্যমে কোম্পানিটির প্রায় ৯৬৮ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ২০২৫-২৬ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে জিপিএইচ ইস্পাতের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ৮১ পয়সায়।

২০২৪-২৫ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে জিপিএইচ ইস্পাতের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫১ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৭৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ৭২ পয়সায়।

২০২৩-২৪ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে জিপিএইচ ইস্পাতের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫৮ পয়সায়। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৪৩ পয়সায়।

২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে জিপিএইচ ইস্পাতের ইপিএস হয়েছে ৫৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৪২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকা ৮ পয়সায়।

২০১২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জিপিএইচ ইস্পাতের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি, পরিশোধিত মূলধন ৪৮৩ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ও রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৮৮৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৮ কোটি ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪৫৬। এর ৩০ দশমিক ২২ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৮ দশমিক ৯০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৫০ দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও