বাংলাদেশে করপোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি)। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটি এমন সব কোম্পানিকে করপোরেট গভর্ন্যান্স এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড দিয়ে আসছে, যারা বোর্ড পরিচালনা, আর্থিক প্রকাশ, নিয়মনীতি অনুসরণ ও শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার রক্ষায় উৎকর্ষতার চর্চা করে।
এ ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন করতে যাচ্ছে ১২তম আইসিএসবি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ফর করপোরেট গভর্ন্যান্স এক্সেলেন্সে-২০২৪। আগামীকাল (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকা হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে এক আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ী কোম্পানিগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খাইরুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াসহ আরো অনেকে।
বর্তমানে আইসিএসবিতে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন কোয়ালিফায়েড মেম্বার রয়েছেন। এর মধ্যে নারী সদস্য মাত্র ২৭ জন, যা মোট সদস্য সংখ্যার তুলনায় এখনো খুবই কম। তবে এ সীমিত সংখ্যার মধ্যেও করপোরেট গভর্ন্যান্স চর্চায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন কয়েকজন নারী পেশাজীবী। এ ২৭ জন নারী সদস্যের মধ্যে মাত্র তিনজন প্র্যাকটিসিং মেম্বার। অর্থাৎ যাদের নিজস্ব ফার্ম রয়েছে এবং যারা সরাসরি করপোরেট পরামর্শ ও কমপ্লায়েন্স অডিটের কাজে যুক্ত। তাদের একজন হলেন কাজী শবনম।
কাজী শবনম দীর্ঘদিন ধরে করপোরেট গভর্ন্যান্স এমপ্লিয়্যান্স অডিট পরিচালনা করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন লিস্টেট ও নন-লিস্টেড কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় ইন্ডিপেনডেন্ট স্ক্রুটিনাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বার্ষিক সাধারণ সভায় ভোটগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই দায়িত্বের মূল লক্ষ্য।
আইসিএসবি-এর করপোরেট গভর্ন্যান্স এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড মূলত এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেয়, যারা কর্পোরেট আইন, বিএসইসি নির্দেশনা, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড ও বোর্ডের জবাবদিহিতায় সেরা চর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এ পুরস্কার করপোরেট খাতে একটি ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।