চট্টগ্রাম চেম্বারের মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী

সারা বছর সরবরাহ নিশ্চিতে এলাকাভিত্তিক কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হচ্ছে

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আসন্ন রমজান উপলক্ষে চিনি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

সারা বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভৌগোলিক সুবিধা অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক কৃষি উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কোন অঞ্চলে কোন সময়ে কোন ফসল উৎপাদন হবে, তা নির্ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে কৃষি উৎপাদন করা গেলে মৌসুমি ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে গতকাল নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিয়ে ব্যবসায়ী-আমদানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আসন্ন রমজান উপলক্ষে চিনি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আমদানির পাইপলাইনেও পণ্য রয়েছে। কোনো ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত বা জোটবদ্ধভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্স, আরজেএসসি, আইআরসি, ইআরসি এবং কৃষিপণ্যের আইপি নিতে সরকারি দপ্তরে যেতে হবে না বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অনলাইনে এক ক্লিকেই এসব সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিটুমিন ও সোডিয়াম সালফেট আমদানিতে শুধু পণ্য পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে খালাসের ব্যবস্থা করা হবে।’

ফলের উচ্চ মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১২১ শতাংশ শুল্ক থাকার পরও মাল্টার দাম কোনো কোনো স্থানে ৪৮০-৫২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, যা গ্রহণযোগ্য নয়। সার সংকটের সময় ফল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ক বাড়ানো হলেও শিগগির তা যৌক্তিক পর্যায়ে পুনর্নির্ধারণ করা হবে। সারা বছর ফলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘খেজুরের শুল্ক কমানোর বিষয়েও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে ন্যূনতম মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাজারে চাপ কমাতে অন্যান্য আমদানি পণ্যের শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

সভায় চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীরা সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। ডাল, চাল, ছোলা, গম, সয়াবিন ও পাম অয়েল এবং চিনিসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতি ১৫ দিন পর পর সমন্বয় সভার মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনে ১৩ টন ওজনসীমার বাধ্যবাধকতায় ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে।’ এ বিধিনিষেধ দ্রুত তুলে নেয়ার দাবি জানান চেম্বার সভাপতি। পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনে লাইটার জাহাজের সিরিয়াল ও ভাড়ার ন্যূনতম মূল্য-সংক্রান্ত জটিলতা দূর করারও আহ্বান জানান। ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যপদ নবায়নে ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বরের বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া এবং সদস্যপদ ও নবায়ন ফি নির্ধারণে চেম্বারকে ক্ষমতা দেয়ারও কথাও বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে সারা দেশে পণ্য পরিবহনে বৈষম্যের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ঢাকা ও সিলেটের মতো দ্রুত কার্গো ভিলেজ বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী আলী আহমেদ বলেন, ‘আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করতে আলোচকদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে হবে।’ এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় চট্টগ্রাম চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এমএ সালাম, বিপিএএমইএর প্রথম সহসভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী, কমিশনার অব কাস্টমস মুহা. মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, বারভিডার সহসভাপতি ডা. হাবিবুর রহমান খান, ইস্টার্ন লজিস্টিকসের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম, টিকে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ও প্রশাসন) মো. জাফর আলম, ক্যাবের সভাপতি এসএম নাজের হোসাইনসহ ব্যবসায়ী নেতা ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও