বিদ্যমান বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ওপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। গতকাল দেশটির সরকার জানায়, চাহিদার তুলনায় চাপে থাকা আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ। খবর রয়টার্স।
অস্ট্রেলিয়ার অর্থমন্ত্রী জিম চ্যালমার্স ও গৃহায়নমন্ত্রী ক্লেয়ার ও’নেইল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আগামী ১ এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিদেশীদের জন্য বিদ্যমান বাসস্থান ক্রয় নিষিদ্ধ করছি।’
এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ভবিষ্যতে বাড়ানো হবে কিনা তা পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান দুই মন্ত্রী।
চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতার কারণে অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন ব্যবস্থার প্রতি নাগরিক অসন্তোষ গত বছর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। শিগগিরই অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে এটি মুখ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
গৃহায়নমন্ত্রী জানান, এ নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রতি বছর স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাড়ি উন্মুক্ত হবে। বিবৃতিতে দুই মন্ত্রী বলেন, ‘এ উদ্যোগ আমাদের বড় ও ব্যাপক আবাসন পরিকল্পনার একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা সরবরাহ বৃদ্ধি ও আরো মানুষকে বাড়ির মালিক হতে সহায়তা করবে।’
অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ আবাসন এবং আসন্ন নির্বাচনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে চলেছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিরোধীদের থেকে জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে রয়েছে মধ্য-বামপন্থী লেবার সরকার।
দেশটির সরকার সম্প্রতি আবাসনসংক্রান্ত নীতিতে সংস্কার এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে যৌথ ইকুইটি প্রকল্প ও ডেভেলপারদের জন্য কর প্রণোদনা, যা ব্যয়সংক্রান্ত চাপ কমানোর পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ১২ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।