জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইন্দোনেশিয়ার কফি খাত

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, কফি উৎপাদনকারী শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে চলতি বিপণন বছরে কেবল ইন্দোনেশিয়ারই উৎপাদন কমবে। বিশেষ করে দক্ষিণ সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপে কফি গাছে ফুল ও ফল আসার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলছে ‘এল নিনো’ আবহাওয়া প্যাটার্ন। এর প্রভাবে তীব্র খরা দেখা দিলে সামনের মৌসুমে কফির ফলন আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ইন্দোনেশিয়ার কফি খাত। অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির ফলে দেশটির কফি উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক, রফতানিকারক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। খবর নিক্কেই এশিয়া।

দক্ষিণ সুমাত্রার কফি চাষী রুসি সিরুয়াদি জানান, এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে তার বাগানের কফি গাছের ফুল পচে গেছে এবং ডালপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এবার কফির ফলন আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। তিনি জানান, এ ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আগের মতো স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে আরো দুই থেকে তিন বছর সময় লেগে যাবে। তার মতো দেশটির হাজার হাজার চাষীর এখন একই অবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, কফি উৎপাদনকারী শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে চলতি বিপণন বছরে কেবল ইন্দোনেশিয়ারই উৎপাদন কমবে। বিশেষ করে দক্ষিণ সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপে কফি গাছে ফুল ও ফল আসার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলছে ‘এল নিনো’ আবহাওয়া প্যাটার্ন। এর প্রভাবে তীব্র খরা দেখা দিলে সামনের মৌসুমে কফির ফলন আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদিত এ রোবাস্তা কফি মূলত ইনস্ট্যান্ট কফি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি কফি উৎপাদনকারী দেশের অন্যতম ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদিত মোট কফির প্রায় ৮০-৯০ শতাংশই হলো এ রোবাস্তা শস্য।

ইউএসডিএর হিসেবে, ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে ইন্দোনেশিয়ার অপরিশোধিত কফি উৎপাদন ৮ শতাংশ কমে ১ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যাগে নামতে পারে (প্রতি ব্যাগ ৬০ কেজি)। ফলে বিশ্ববাজারে চতুর্থ বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে দিতে পারে ইথিওপিয়া।

রফতানি বাজারের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) ইন্দোনেশিয়ার কফি রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৬১ কোটি ৪০ লাখ ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। ২০২৫ সালে ব্রাজিলের সরবরাহ সংকটের কারণে ইন্দোনেশিয়ার কফি রফতানি আয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল। তবে এবার আবহাওয়াজনিত কারণে উৎপাদন কমায় সেই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

কফির উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে কফি বিনের দাম এবং পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে ছোট ছোট ক্যাফে মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাদের মুনাফার হার ৩০ শতাংশ থেকে কমে ১৫ থেকে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও দেশটির বড় কফি শপ চেইনগুলো নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে, তবে কাঁচামালের সংকটে ভুগছে তারাও।

একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাপানের মতো বড় আন্তর্জাতিক বাজারে কফি রফতানির ক্ষেত্রে পরিবেশগত ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের শর্ত কঠোর করা হচ্ছে। এতেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন সাধারণ চাষিরা। সংকট কাটাতে ইন্দোনেশিয়া সরকার কৃষকদের সার সহায়তা, পুনঃরোপণ এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে চরম আবহাওয়ার কারণে সামনে আরো কঠিন সময় আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও