জাপানে শিশুর চেয়ে পোষা প্রাণী বেশি

বড় হচ্ছে ‘পেট কেয়ার’ বাজার

জাপানে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুর তুলনায় পোষা প্রাণীর সংখ্যা ২০ লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে।

দেশটিতে জন্মহার দিন দিন কমছে। ফলে মানুষ এখন নিঃসঙ্গতা কাটাতে পোষা প্রাণীর দিকে ঝুঁকছে বলে উঠে এসেছে একাধিক গবেষণায়। এ পরিবর্তনের কারণে পোষা প্রাণীর সেবামূলক ব্যবসার এক বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে জাপানে।

জাপানের অনেক শহরে দেখা যায়, শিশুপণ্য তৈরি করা কোম্পানিগুলো এখন পোষা প্রাণীদের পণ্য বিক্রি করছে। ডায়াপার, স্ট্রলার ও প্র্যাম তৈরির কোম্পানিগুলো মনোযোগ দিচ্ছে কুকুর ও বিড়ালের সেবার দিকে।

গফু প্রিফেকচারের ইকেদার বাসিন্দা শিন ওহতা জানান, তিনি একদিন তার টয় পুডল (এক জাতের কুকুর) নিয়ে পার্কে হাঁটছিলেন। হাঁটার সময় তার কুকুরটি প্রায়ই মাঝপথে থেমে যেত। পাঁচ কেজি ওজনের কুকুরটিকে কোলে নিয়ে হাঁটা ওহতার জন্যও ছিল বেশ কষ্টের। তিনি জাপানের সবচেয়ে পুরনো বেবি ক্যারিয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লাকি ইন্ডাস্ট্রিজে কাজ করেন। ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোম্পানিটি চার কোটির বেশি বেবি ক্যারিয়ার বিক্রি করেছে।

ওহতা ভাবলেন, শিশুদের বহনের প্রযুক্তিটি পোষা প্রাণীদের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তিনি ২০২২ সালে কুকুরের জন্য বিশেষ ‘হিপ ক্যারিয়ার’ বা কোলে নেয়ার বেল্ট বাজারে ছাড়েন। পণ্যটির নাম দেয়া হয় ‘নু-ই’। সম্প্রতি টোকিওতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ইন্টারপেটস প্রদর্শনীতে অংশ নেয় লাকি ইন্ডাস্ট্রিজ। মেলায় পোষা প্রাণীদের জন্য নানা রকম আধুনিক পণ্য প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল পোষা প্রাণীর ভেজা শরীর শুকানোর যন্ত্র থেকে শুরু করে বিড়ালের অর্গানিক খাবার।

মেলায় অনেক মালিককেই তাদের পোষা প্রাণীদের সুন্দর স্ট্রলারে বা কাপড়ের বেল্টে করে নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। অনেকের গায়ে ছিল রঙিন পোশাক ও ডায়াপারও।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটরের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে পোষা প্রাণীর যত্নে ব্যবহৃত পণ্যের বাজার দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার কোটি ইয়েন বা প্রায় ৫৪০ কোটি ডলার। ২০২০ সালে বাজারটির আকার ছিল ৬৮ হাজার ৯৬০ কোটি ইয়েন।

জাপানের বিখ্যাত কোম্পানি ইউনিচার্ম আগে নারীদের স্যানিটারি পণ্য ও শিশুদের ডায়াপার তৈরি করত। ২০০১ সাল থেকে কোম্পানিটিও পোষা প্রাণীদের ডায়াপার বানানো শুরু করে। বর্তমানে এটি কোম্পানির আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

কোম্পানির ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের ব্যবহার্য প্রসাধন সামগ্রীর তুলনায় পোষা প্রাণীর পণ্যে মুনাফার হার অনেক বেশি। পোষা প্রাণীর বিভাগে কোম্পানির মুনাফার হার ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে মানুষের পণ্যে লাভ ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।

ইউনিচার্মের মুখপাত্র ইশু উয়েহারা জানান, জাপানে মানুষ এখন দেরিতে বিয়ে করছে কিংবা অবিবাহিত থাকছে। সন্তানহীন দম্পতির সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে মানসিক শান্তির জন্য মানুষ পোষা প্রাণীকে পরিবারের সদস্য বা সন্তানের মতো লালন-পালন করছে। মানুষ এখন তাদের পোষা প্রাণীদের রেস্তোরাঁ বা ক্যাফেতেও সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে।

একইভাবে এয়ারবাগি বা সুইট মামির মতো জাপানি ব্র্যান্ডগুলোও এখন শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পোষা প্রাণীদের পণ্য তৈরি করছে। —খবর আল জাজিরা

আরও