মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে সংকট। কাঁচামালের পাশাপাশি বেড়েছে উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন খরচও। এর ফলে ডিসেম্বরে খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। বিশ্বজুড়ে যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে চাপ বাড়াবে। একই সঙ্গে ভোক্তা, উৎপাদক ও খুচরা বিক্রেতারা নতুন জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন। যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই (সিআইপিএস) পরিচালিত এক জরিপে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
সিআইপিএস গ্লোবাল পালসের ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ, অর্থাৎ ২৩ শতাংশ মনে করেন, আগামী তিন মাসে খাদ্য ও পানীয়ের দাম অন্তত ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। এ ছাড়া ৩৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ধারণা করছেন, জাহাজ ও লজিস্টিকস খাতের খরচ আরো বাড়তে পারে। তারা পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ সংক্রান্ত ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা করেছেন।
জরিপে বলা হয়েছে, সরবরাহ সংকটের প্রভাব এখন শুধু পণ্য পরিবহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কাঁচামাল ও উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ায় নতুন করে পণ্য উৎপাদনেও খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে পণ্য গুদাম ও দোকানে পৌঁছানোর ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে উৎপাদন থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় খরচের চাপ তৈরি হয়েছে।
সিআইপিএসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জন গ্লেন বলেন, ‘বছরের শুরুর দিকে মূলত উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের খরচ নিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের চিন্তা ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। উৎপাদনকারীদের বেশি দামে কাঁচামাল কিনে পণ্য তৈরি করতে হচ্ছে এবং তা পরিবহনেও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। ফলে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের মূল উৎপাদন খরচ ধাপে ধাপে অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে।’
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, বিরূপ আবহাওয়া, সারের অপ্রতুলতা এবং ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপের কারণে খাদ্য সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজির দাম বেড়ে গেছে এবং এল নিনোর প্রভাবে চাল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের কাঁচামাল সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা বাড়তি এ খরচ বহন করতে চান না। তাই উৎপাদকরা পড়েছেন মারাত্মক আর্থিক চাপে। মুনাফা ও পণ্যের দামের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য।
পণ্য পরিবহন ও বিতরণে পরিশোধিত জ্বালানি ডিজেলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ড. জন গ্লেন সতর্ক করে জানান, জ্বালানি, কাঁচামাল ও পরিবহন খরচ একসঙ্গে বাড়লে শুধু পরিবহনের পথ বদলে খরচ কমানো সম্ভব না।
তিনি আরো বলেন, ‘ক্রেতাদের গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্যের দাম বাড়ানো বা উৎপাদন বন্ধের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ সংকট অব্যাহত থাকলে বড়দিন থেকে শুরু করে নতুন বছরের শুরু পর্যন্ত খাদ্য ও উৎপাদিত পণ্যের বাজারে উচ্চমূল্যের চাপ বজায় থাকতে পারে।’