ইরানের সামরিক সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম গত শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এপ্রিলের শেষ দিকের পর এটিই ছিল জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। জ্বালানি অবকাঠামোসহ সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়ার খবর বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে গত শুক্রবার লেনদেনের এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ৪৫ সেন্টে ওঠে। পরে দিন শেষে দাম দাঁড়ায় ১১৬ ডলার ৭২ সেন্টে। মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার ৯৭ সেন্টে পৌঁছায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো নিরাপত্তার কারণে ধাহরানে নিজস্ব সদর দপ্তর খালি করার নির্দেশ দেয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এদিকে ইউএইর উম্ম আল কুয়াইন উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার খবর জানিয়েছে দেশটির পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। তবে কোন জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল ছড়িয়েছে, তা শনাক্ত করা যায়নি।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। সাম্প্রতিক সময়ে এ পথে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন কিছুটা বাড়লেও নতুন করে হামলা শুরু হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তেল উত্তোলন কেন্দ্র, পরিশোধনাগার কিংবা রফতানি অবকাঠামোয় হামলা হলে সরবরাহ স্বাভাবিক করতেও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
র্যাপিডান এনার্জির প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত বাড়লে এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছতে পারে।
বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির বাড়তি দাম অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমানে ডিজেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০০ ডলারে পৌঁছেছে। সংঘাত আরো বাড়লে তা ২৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাশিয়ার ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার নিউইয়র্কের দিকে যাচ্ছে। অন্যদিকে জার্মানি কৌশলগত মজুদ থেকে ডিজেল, জ্বালানি তেল ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের পরও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের গতিপ্রকৃতির ওপরই তেলের বাজারের পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।