২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষ

থাইল্যান্ডে ধান উৎপাদন কমার পূর্বাভাস

থাইল্যান্ডের ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে চাল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

মূলত পানির প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ ও বৈরী আবহাওয়ায় দেশটির কৃষি খাতে এ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) বৈদেশিক কৃষি সেবা (এফএএস) তাদের সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মৌসুমে থাইল্যান্ডে চাল উৎপাদন ২ কোটি ৩ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। গত মৌসুমে এর পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৭ লাখ টন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় উৎপাদন প্রায় ২ শতাংশ কমতে পারে। মূলত অফ-সিজন বা রবি মৌসুমের ধান চাষের জমি কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর চাষের জমি ২১ লাখ হেক্টর থেকে কমে ১৯ লাখ হেক্টরে দাঁড়াবে।

এ সংকটের মূলে রয়েছে আবহাওয়া পরিস্থিতি। গত বছরের বর্ষা মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাতে জলাধারগুলোয় পানির ভালো মজুদ থাকলেও এ বছর আবহাওয়া অফিস ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। থাইল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগ (টিএমডি) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে উঠতে পারে। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কৃষকদের সেচ ব্যবস্থাকে সংকটে ফেলবে।

উৎপাদন কমলেও থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের চাহিদা স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ মৌসুমে দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ টন চালের চাহিদা থাকতে পারে। পর্যটন খাতের প্রসার এবং হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোয় চালের চাহিদা বাড়ায় পারিবারিক ব্যবহার কমলেও সামগ্রিক চাহিদায় বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না।

আন্তর্জাতিক বাজারেও থাইল্যান্ড বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। ভারত, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো কম দামে চাল সরবরাহ করায় থাই চালের রফতানি বাজার কিছুটা সংকুচিত হচ্ছে। এছাড়া থাইল্যান্ডের মুদ্রা ‘বাত’-এর বিনিময় হার বাড়ায় বিশ্ববাজারে তাদের চালের দাম বেড়ে গেছে। ফলে চাল রফতানি প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার টন কমে ৭৩ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে।

আরও