রবি মৌসুমের মজুদ শেষ দিকে

বাজারে শুকনো মরিচের দাম চড়া

সারা দেশের উৎপাদিত মরিচের পর্যাপ্ত মজুদের পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানির কারণে রবি মৌসুমে স্বাভাবিক থাকে শুকনো মরিচের বাজার। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

সারা দেশের উৎপাদিত মরিচের পর্যাপ্ত মজুদের পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানির কারণে রবি মৌসুমে স্বাভাবিক থাকে শুকনো মরিচের বাজার। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। কভিড-১৯-এর কারণে বছর ভারত থেকে আমদানি যেমন কমেছে, তেমনি বন্যা পরিস্থিতির কারণে দেশীয় মরিচের মজুদ পরিস্থিতিও ভালো নয়। ফলে সরবরাহ সংকেট পাইকারি খুচরা বাজারে বাড়ছে শুকনো মরিচের দাম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগেও ভারত থেকে আমদানীকৃত প্রতি কেজি শুকনো মরিচ বিক্রি হয়েছিল ১৬৫-১৭০ টাকায়। কিন্তু বর্তমানে একই মানের মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮৭-১৯০ টাকায়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রায় প্রতিদিনই আমদানীকৃত মরিচের দাম বাড়ছে। পাশাপাশি দেশীয় শুকনো মরিচের দাম ১৫-২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪২-১৪৫ টাকায়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমতে থাকায় দেশীয় শুকনো মরিচের দামও বাড়তির দিকে।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের মেসার্স নাজিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক অমল সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, ভারতীয় মরিচ দেশীয় চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে কয়েক মাস ধরে ভারতীয় মরিচের সরবরাহ কমে গেছে। আমদানি কমলেও দেশের সবচেয়ে বড় দুই ধর্মীয় উৎসব রমজান কোরবানির ঈদে দেশীয় মজুদের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়েছে। বর্তমানে দেশীয় মজুদ কমে আসায় পাইকারি বাজারে শুকনো মরিচের চাহিদা বাড়ছে। কারণে দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মসলাজাতীয় পণ্যটির। 

দেশের বাজারে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে পঞ্চগড়ের মরিচ। বাজারে জাতের মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪২-১৪৫ টাকায়। এর আগে বিন্দু জাতের কুমিল্লার মরিচের সরবরাহ থাকলেও বর্তমানে কুমিল্লার মরিচের সরবরাহ নেই। এছাড়া খাতুনগঞ্জের বাজারে আগে হাটহাজারী জাতের কম ঝালযুক্ত মরিচের সরবরাহ থাকলেও বর্তমানে কিছুটা সরবরাহ সংকটে দাম বেড়েছে। কেজিপ্রতি হাটহাজারী মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৬০ টাকা দরে। 

শুকনো মরিচ মূলত রবি মৌসুমের পণ্য। ১৫ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে শীতকালীন রবি মৌসুম শুরু হয়। সময়ে আবাদ হওয়া মরিচ ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শুকিয়ে বাজারজাত মজুদ করা হয়। রবি মৌসুমের পর বর্ষা পর্যন্ত সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকে। এর পরই শুরু হয় শুকনো মরিচের সরবরাহ সংকট। সময় দাম বাড়তে থাকায় ভারতীয় শুকনো মরিচের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন দেশের ব্যবসায়ী ভোক্তারা। তবে বছর করোনাভাইরাসের কারণে পণ্য সরবরাহ কিছুটা শ্লথ হওয়ায় পণ্যটির দামও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

দেশে কুমিল্লা, ভোলা, রায়পুর, বগুড়া, পঞ্চগড়, হাটহাজারী এলাকায় মরিচের আবাদ উৎপাদন হয় বেশি। দেশীয় মরিচের মান ভালো হলেও আমদানীকৃত মরিচ শুধু দেখতে ভালো হওয়ার কারণে খুচরা বাজারে চাহিদা বেশি থাকে। ফলে ভারতীয় আমদানীকৃত মরিচের দাম দেশীয় মরিচের চেয়ে বেশি থাকে। অন্যদিকে রবি মৌসুম শেষ হলেও বাড়তি লাভের আশায়  দেশের বিভিন্ন জেলায় শুকনো মরিচের মজুদ তৈরি করেন ব্যাপারীরা। পাইকারি বাজারে মরিচের সরবরাহ সংকট উৎসবকেন্দ্রিক উপলক্ষকে সামনে রেখে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে ওই সময়ে সরবরাহ করা হয় মজুদ মরিচ। তবে দেশীয় মরিচের পাশাপাশি ভারত থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ শুকনো মরিচ আমদানি হয়। মূলত মৌসুমের শেষ দিকে সরবরাহ সংকট দেখা দিলে পণ্যটির বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। বছর বিলম্বিত বৃষ্টিপাতের কারণে রবি মৌসুমের আবাদ কিছুটা দেরিতে হচ্ছে। কারণে শুকনো মরিচের সরবরাহ সংকট আরো তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

আরও