মূলত জ্বালানি তেল উত্তোলনের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হতেই ওপেক ও ওপেক জোট ত্যাগ করে দেশটি। খবর রয়টার্স।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশটির দৈনিক জ্বালানি তেল উত্তোলন ৩ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। গত ১ মে ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে বের হয়ে আসে ইউএই। এর মূল কারণ ছিল কোটাভিত্তিক উত্তোলন কমার বাধ্যবাধকতা থেকে নিজেদের মুক্ত করা। উত্তোলনের এ প্রবৃদ্ধি দেশটির কৌশলগত সিদ্ধান্তের প্রাথমিক প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিন ধরে ইউএই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। দেশটির সরকারের দাবি, এ বিনিয়োগের কারণেই তাদের স্বাধীনভাবে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও রফতানির অধিকার থাকা উচিত। ওপেক ছাড়ার সময় আমিরাতের জ্বালানিমন্ত্রী সুহেল আল-মাজরুই বলেছিলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিশ্ববাজারে কোনো বাধা ছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন তাদের দায়িত্ব।’ তবে এ উত্তোলন বাড়ার বিষয়ে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) বা দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা ছিল। তবে এখন বাজারে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়টি মূল চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত কমছে জ্বালানি তেলের দাম। গত এপ্রিলের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ১২৬ ডলারে উঠেছিল। এটি ছিল চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে সরবরাহ বাড়ায় সোমবার তা কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলারে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের দামের সমান। বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউএইর রাষ্ট্রীয় কোম্পানি অ্যাডনক কম মূল্যছাড়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
তেল উত্তোলন পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক এগিয়ে গেছে ইউএই। হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য দেশ জ্বালানি তেল সরবরাহ সচল করলেও এর পরিমাণ যুদ্ধের আগের চেয়ে অনেক কম। গত জুনে সৌদি আরবের দৈনিক তেল রফতানি ছিল ৪৩ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল কম। কুয়েতের উত্তোলন বেড়ে ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছলেও তা আগের চেয়ে ১০ লাখ ব্যারেল কম। অন্যদিকে ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলক দেশ ইরাক জুনে দৈনিক ৭ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল রফতানি করেছে, যা সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় মাত্র এক-পঞ্চমাংশ।