আকিজ টেবিলওয়্যার ২০২১-২২ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে কয়েক বছরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বর্তমানে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাসহ ২০টিরও বেশি দেশে প্রিমিয়াম টেবিলওয়্যার রফতানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে দেশের টেবিলওয়্যার শিল্পের অন্যতম রফতানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আকিজ টেবিলওয়্যার। প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
আকিজ টেবিলওয়্যারের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের তালিকায় রয়েছে রোজেনথাল, টার্গেট, এইচঅ্যান্ডএম, টিসিসি, এক্সএক্সএক্সএললুটজ, কাসানোভা, আর্ক, আলেসি, মোনোপ্রি মেজোঁ, পোরসেলানা বোগুচি, হুশটেনরয়টার, ভেইসেসটাল, মোম্যাক্স ও পোরসগ্রুনদের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ড এবং খুচরা বিক্রেতা। উন্নত প্রযুক্তি, মানসম্পন্ন কাঁচামাল ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণকে প্রবৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে আকিজ টেবিলওয়্যারের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার পিস, এ হিসেবে বছরে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি। প্লেইন, স্কয়ার, ক্রিঙ্কল ও হোরেকাসহ বিভিন্ন আকৃতির টেবিলওয়্যার উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি।
উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে উন্নত জার্মান দ্রুত-দহন প্রযুক্তি। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভাঙন সহনশীলতা, পানি শোষণ, তাপীয় অভিঘাত, গ্লেজের মান ও সিসা-ক্যাডমিয়াম নির্গমনসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের পণ্য ক্ষতিকর সিসা ও ক্যাডমিয়ামমুক্ত এবং বাসন ধোয়ার যন্ত্র ও মাইক্রোওয়েভে ব্যবহারের উপযোগী।
টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে আকিজ টেবিলওয়্যার। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কারখানার প্রায় ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ সৌরশক্তি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ৩৫ শতাংশ বর্জ্য পানি পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজস্ব শোধনাগারের মাধ্যমে শিল্প বর্জ্য পরিশোধনের পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তাপ সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে টেবিলওয়্যার শিল্পকে তুলে ধরতে বাংলাদেশের প্রথম টেবিলওয়্যার ব্র্যান্ড হিসেবে সম্প্রতি শিকাগোর ‘দ্য ইন্সপায়ার্ড হোম শো’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে আকিজ টেবিলওয়্যার। এছাড়া প্রতি বছর অ্যামবিয়েন্টেসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশে তৈরি পিওর পোর্সেলিনের মান, কারুকার্য ও নকশা সক্ষমতা তুলে ধরছে প্রতিষ্ঠানটি।