কনটেইনার শিপিং জায়ান্ট মায়েরস্ক জানিয়েছে, সাময়িকভাবে ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ হিসেবে তারা আঞ্চলিক উত্তেজনার কথা উল্লেখ করেছে। তবে ওই অঞ্চলে অন্যান্য বন্দরে মায়েরস্কের পরিষেবা অব্যাহত চলবে। খবর রয়টার্স।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাগুলো বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্যকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে। গাজার হামলার কারণে লোলিত সাগরের বাব আল মানদেব প্রণালি অনেক দিন ধরে অবরুদ্ধ রয়েছে। এখন ইরানে ইসরায়েলের হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিও বাণিজ্য জাহাজের জন্য বিপৎসংকুল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে পণ্যবাহী জাহাজ ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত হাইফা বন্দর এড়িয়ে চলায় সমুদ্র বাণিজ্যে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গতকাল হাইফা বন্দরে কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয় মায়েরস্ক। একই সঙ্গে ড্যানিশ কোম্পানিটি জানায়, এ সিদ্ধান্ত ছাড়া অঞ্চলের অন্যান্য নির্ধারিত কার্যক্রমে তারা কোনো বিঘ্ন দেখছে না।
এক সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর আকাশ হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। তারা বলছে, এ হামলার লক্ষ্য হলো তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখা। তবে ইরান এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করার পরিকল্পনা অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা হামলার মাধ্যমে জবাব দিয়ে যাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, তারা হাইফা ও তেল আবিবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সামরিক ও শিল্প স্থাপনাগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সম্মিলিত হামলা চালিয়েছে। এর পরই মায়েরস্ক কর্তৃপক্ষ হাইফা বন্দর নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাল।
এদিকে সংঘাতের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলাচলে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে পণ্য পরিবহনকারীদের। এফটির এক প্রতিবেদন অনুসারে, পারস্য উপসাগর থেকে চীনের পথে দুই লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল বহনে সক্ষম ক্রুড ট্যাংকার ভাড়া সপ্তাহখানেক ছিল দৈনিক ১৯ হাজার ৯৯৮ ডলার। কিন্তু ইসরায়েলের হামলার দুদিন পর থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৪৭ হাজার ৬০৯ ডলার।
এ রুটে ভাড়ার বৃদ্ধি সারা বিশ্বের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার রেটের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যাল্টিক ডার্টি ট্যাংকার সূচকের ১২ শতাংশ বৃদ্ধিকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে।