কম খরচ ও অধিক লাভজনক হওয়ায় জেলার কৃষকরা এ ফসল আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। গত ১৫ বছরে জেলায় সূর্যমুখীর আবাদ বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। এতে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি চরাঞ্চলের কৃষির চিত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলার নয়টি উপজেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ বছর আগে জেলায় মাত্র ৮০ হেক্টর জমিতে এ ফসলের চাষ হতো। এ হিসাবে দীর্ঘ দেড় দশকে আবাদ বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। বিশেষ করে জেলার সদর, কাজীপুর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সূর্যমুখী বীজের বপন থেকে সংগ্রহ পর্যন্ত মাত্র তিন মাস সময় লাগে। হেক্টরপ্রতি ফলন পাওয়া যায় প্রায় ১ দশমিক ৫ টন। ধান কাটার পর পতিত জমি ও যমুনার বালুময় চরাঞ্চল সূর্যমুখী চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। নদীভাঙন প্রবণ এলাকার বালুচরে যেখানে অন্য ফসল ফলে না, সেখানে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কৃষক মন্টু শেখ জানান, পতিত জমিতে চার বিঘা সূর্যমুখী চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। ভালো ফলন হওয়ায় তিনি ১০-১২ হাজার টাকায় ফসল বিক্রির আশা করছেন।
চৌহালী উপজেলার আলতাফ হোসেন জানান, প্রতি বিঘা থেকে ৮-৯ মণ বীজ পাওয়া যায়। সূর্যমুখী বীজ থেকে স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্যতেল উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় অন্তত আট হাজার টাকা মুনাফা করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ধীতপুর আলাল গ্রামের কৃষক আলী আকবর দুই বছর ধরে সূর্যমুখী আবাদ করছেন। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি লাভের আশা করছেন তিনি।
কাজীপুর উপজেলার নাটুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন জানান, ধান ও ভুট্টার তুলনায় সূর্যমুখী ফুলে বেশি লাভ হয়। তাই গত পাঁচ বছর এ ফুলের আবাদ করছেন তিনি। চাষাবাদ বাড়ায় জেলায় ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটানোর বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম মনজুরে মাওলা বলেন, ‘সিরাজগঞ্জের জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় জেলায় প্রতি বছরই এর উৎপাদন বাড়ছে। লক্ষ্যমাত্রার প্রায় কাছাকাছি আবাদ হয়েছে এ বছর। চরাঞ্চলের কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সূর্যমুখীর আবাদ বাড়লে ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা অনেক কমে আসবে।’