কিন্তু এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড পরিষেবা ও ডিজিটাল প্লাটফর্মের সাফল্যের ওপর ভর করে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকা নিজেদের দখলে নিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা ও নির্বাহীরা। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সের গত সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবের তালিকার ৯ জনই প্রযুক্তি খাতের পরিচিত ব্যক্তি। তাদের সম্মিলিত সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
তালিকায় সবচেয়ে ওপরে রয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম আলোচিত নাম ইলোন মাস্ক। বর্তমানে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।
সাতটি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইলোন মাস্কের বর্তমান মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। চলতি বছরেই তার সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। বড় ব্যবধানে তিনি বিশ্বের অন্য সব ধনকুবেরকে পেছনে ফেলে শীর্ষে অবস্থান করছেন।
মাস্কের এ বিশাল সাম্রাজ্য ছড়িয়ে আছে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি, মহাকাশ প্রযুক্তি, এআই, চিকিৎসা প্রযুক্তি (মেডটেক) ও ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোয়।
ইলোন মাস্কের পরেই শীর্ষ ধনীর তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করেছেন সার্চ ইঞ্জিন গুগলের দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন। এর মধ্যে ল্যারি পেজের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ হাজার ২০০ কোটি ডলার। সের্গেই ব্রিনের সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ২৯ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ব্যবসায়িক কৌশলে এআই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার পর থেকে সম্প্রতি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেটের।
শীর্ষ ধনীর তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তার বর্তমান মোট সম্পদের পরিমাণ ২৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। অনলাইন কেনাকাটা ও ক্লাউড পরিষেবা বাজারে অ্যামাজনের একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে চলতি বছরে তার সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। এদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের চেয়ারম্যান ও সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন আছেন তালিকার পঞ্চম স্থানে। তার মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ২৮ হাজার ১০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি মাত্র একদিনেই ল্যারি এলিসনের সম্পদ ২ হাজার ১৫০ কোটি ডলার বেড়ে যায়।
চলতি বছর আর্থিক দিক থেকে অন্যতম বড় চমক দেখিয়েছেন কম্পিউটার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইকেল ডেল। ২২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে তিনি তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে আছেন। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত তার সম্পদ বেড়েছে অবিশ্বাস্যভাবে, যার পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৯১০ কোটি ডলার।
অন্যদিকে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ ২২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে তালিকার সপ্তম স্থানে নেমে গেছেন। চলতি বছর তার মোট সম্পদ কমেছে প্রায় ৮৭০ কোটি ডলার। এআই প্রযুক্তির এ যুগে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া। এনভিডিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেনসেন হুয়াং ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন। এআই শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ায় এনভিডিয়ার শেয়ারদর হু হু করে বেড়েছে। ফলে চলতি বছর জেনসেন হুয়াংয়ের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি ডলার।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। ধনকুবেরদের এ তালিকাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আগামী দিনগুলোয় এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার যত বাড়বে, প্রযুক্তি জায়ান্টদের সম্পদের পরিমাণ আরো আকাশচুম্বী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।