চলমান অর্থনৈতিক সংকট জার্মানির শ্রমবাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। চলতি গ্রীষ্মে দেশটিতে বেকারত্বের হার কভিড-১৯ মহামারীর স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। খবর ইউরো নিউজ।
দেশটির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, জুলাইয়ে চাকরি না থাকা জার্মানের সংখ্যা ১৮ হাজার বেড়েছে। গ্রীষ্ম ঋতুসংক্রান্ত উপাদানগুলো সমন্বয় করে এ সংখ্যা পাওয়া গেছে। তবে সমন্বয় ছাড়া বেকারের সংখ্যা গত মাসে ৮২ হাজার বেড়েছে। এর অর্থ দেশটিতে মোট ২৮ লাখ ১০ হাজার মানুষ ওই মাসে কর্মহীন ছিল। এ হিসাবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে দেশটিতে বেকার বেড়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার।
সাধারণত বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় জার্মানিতে গ্রীষ্মকালে বেকারত্ব বেড়ে যায়। কারণ ছুটির মৌসুম হওয়ায় এ সময় নিয়োগের গতি কমে যায়। তা সত্ত্বেও চলতি বছরের জুলাইয়ে বেকার বাড়ার হার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি।
এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির আঞ্চলিক পরিচালক ড্যানিয়েল টেরজেনবাখ বলেন, ‘শ্লথ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্রমবাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাই বেকারত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে।’
জার্মানিতে গত মাসে বেকারত্বের হার ৬ শতাংশে ছিল, ধীরে ধীরে বেকারত্বের হার বাড়লেও তা প্রায় মহামারী চলাকালীন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।
২০২১ সালের প্রথম দিকে জার্মান শ্রমবাজারে বেকারত্ব বৃদ্ধির হারে পতন ঘটে, এরপর ২০২২ সালের প্রথম দিক থেকে বেকার বাড়তে শুরু করে। এখন ক্রমাগত বাড়ছে।
জার্মানির অর্থনীতিতে শিল্প খাতের গুরুত্ব শীর্ষে। কিন্তু ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেনে আক্রমণের ফলে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটে দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে।
জার্মানিকে তার হতাশাজনক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানের কারণে ‘ইউরোপের অসুস্থ মানুষ’ হিসেবে ডাকা হয়। ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) থেকে দেশটির বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধির হার সংকোচনে রয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) ও গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) উভয়ের তুলনায় গত প্রান্তিকে জার্মানির অর্থনীতি দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
তবে অর্থনৈতিক মন্দার সময় অনেক জার্মান কোম্পানি শ্রমিকদের ধরে রেখেছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির তথ্যও জার্মানির জন্য খারাপ খবর দিয়েছে। জুনের তুলনায় জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।