ঋণ পরিশোধে অনিয়মিত হয়ে পড়া সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়ার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রুপটির পাঁচটি ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সিন্ডিকেটেড চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা প্রদানে ব্যাংক-কোম্পানী আইনের বিধিনিষেধ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
শিল্প গ্রুপটি নিয়ে গত ৬ মে বণিক বার্তায় ‘আর্থিক চাপ সামলাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিসহায়তা চাইল সিটি গ্রুপ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠার পর ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করা সিটি গ্রুপ আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক ও স্থানীয় নানা সংকটের কারণে গ্রুপের কোম্পানিগুলোর ব্যাংক ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নীতিসহায়তা চেয়ে লিখিত আবেদন করে গ্রুপটি।
দেশী-বিদেশী প্রায় ৪৭টি ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি থেকে নেয়া এ ঋণের স্থিতি এরই মধ্যে ২৬ হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে বলে জানা গেছে। ঋণ পরিশোধ না করায় অনেক ব্যাংক গ্রুপটিকে এরইমধ্যে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করেছিল। এ অবস্থায় গত ২৫ অক্টোবর ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহী ও গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সিটি গ্রুপের বিদ্যমান আর্থিক পরিস্থিতি, ঋণ আদায় প্রক্রিয়াসহ সামগ্রিক বিষয়ে পর্যালোচনা হওয়ার পর আজ ওই প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি ডাল মিলস্ লিমিটেড এবং শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস্ লিমিটেডের ক্ষেত্রে ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক (৩) ধারা স্থগিত থাকবে। ওই বিধানে ঋণ খেলাপি কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নতুন ঋণ সুবিধা প্রদানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সিটি ব্যাংক পিএলসির নেতৃত্বে গঠিতব্য ৩ হাজার কোটি টাকার এ সিন্ডিকেটেড ঋণ দেয়া হবে গ্রুপটিকে। তবে এ ঋণ সুবিধার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত এ ঋণ সুবিধার বিপরীতে সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো প্রকার দায় সৃষ্টি হবে না এবং ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক পিএলসি অথবা সিন্ডিকেটভুক্ত কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে না।
এতে আরো বলা হয়, সিটি গ্রুপকে এমন সম্পত্তি রেজিস্টার্ড মর্টগেজ বা জামানত হিসেবে প্রদান করতে হবে যা তাদের অন্য কোনো ঋণ বা দায়ে আবদ্ধ নয়। এ ছাড়া, সিন্ডিকেটেড ঋণের টাকায় কেনা কাঁচামাল বা পণ্য বিক্রয়লব্ধ অর্থ একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উক্ত হিসাব থেকে অনুপাত অনুযায়ী ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলোর পাওনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।
সিন্ডিকেটেড ঋণের অর্থ দিয়ে যেসব কাঁচামাল আমদানি করা হবে, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো তা ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর ‘সিকিউরিটি এজেন্ট’র প্রতিনিধি হিসেবে ক্রয় করবে এবং জিম্মাদার হিসেবে প্রক্রিয়াজাত করবে বলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।