ফোর্টনাইটের জনপ্রিয়তা কমায় এপিক গেমসের ১ হাজার কর্মী ছাঁটাই

বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘ফোর্টনাইট’-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এপিক গেমস।

প্রতিষ্ঠানটি এক হাজারেরও বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করবে। মূলত ফোর্টনাইটের প্রতি খেলোয়াড়দের আগ্রহ বা এনগেজমেন্ট কমে যাওয়ায় এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছাঁটাইয়ের এ ঘটনাকে বিশ্বজুড়ে গেমিং শিল্পের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অনেকে। খবর রয়টার্স।

প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছে গত মঙ্গলবার পাঠানো এক বার্তায় এপিক গেমসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম সুইনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে কোম্পানি আয়ের চেয়ে ব্যয় অনেক বেশি করছে। তাই কোম্পানিকে আর্থিকভাবে টিকিয়ে এবং তহবিল সচল রাখতে বড় ধরনের কাটছাঁট ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এ ছাঁটাই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞাপন এবং চুক্তিবদ্ধ কাজের ব্যয় কমিয়ে প্রায় ৫০ কোটি ডলার সাশ্রয় করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

দীর্ঘদিন ধরে ‘ফোর্টনাইট’-এর মতো বড় গেমগুলো বিশ্ববাজারে বেশ দাপটের সঙ্গে টিকে ছিল। করোনা মহামারী-পরবর্তী সময়ে অনেক গেমিং কোম্পানি সংকটে পড়লেও ফোর্টনাইট জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। তবে সম্প্রতি এ জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে ‘লাইভ-সার্ভিস’ গেমগুলোয় খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত নতুন ও ব্যয়বহুল কনটেন্ট বা ফিচার যোগ করতে হয়। বর্তমানে সে চাহিদা পূরণ করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

টিম সুইনি জানান, ফোর্টনাইট গেমটিকে আগের মতো আকর্ষণীয় করে তুলতে তারা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। ১৯৯১ সালে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে তিনি সবচেয়ে চরম বা কঠিন সময় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে এ ছাঁটাইয়ের পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কোনো ভূমিকা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন। মূলত আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, তিন বছরের মধ্যে এটি এপিক গেমসের দ্বিতীয় বড় ছাঁটাই। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ৮৩০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কেবল এপিক গেমস নয়, ইলেকট্রনিক আর্টস (ইএ) ও অ্যামাজনের গেমিং বিভাগও সম্প্রতি কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে। মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সেমিকন্ডাক্টরের বাড়তি খরচও গেমিং খাতের এ বর্তমান অস্থিরতার জন্য দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও