দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে মিশ্র প্রবণতা

জিডিটি নিলামে মূল্য হ্রাস পেয়েছে ১.১ শতাংশ

পাঁচটি নিলামে টানা বাড়ার পর এবারই প্রথম সূচক কমল।

আন্তর্জাতিক দুগ্ধপণ্যের বাজারে দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড (জিডিটি) নিলামে দুগ্ধপণ্যের দাম কমেছে। এতে জিডিটি মূল্যসূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। পাঁচটি নিলামে টানা বাড়ার পর এবারই প্রথম সূচক কমল। খবর এগ্রিল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড ও ইডেইরি নিউজ।

সর্বশেষ নিলামে জিডিটি সূচক ১ হাজার ১৬৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আগের নিলামে এ সূচক ছিল ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্ট। নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্যের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ৩ হাজার ৩৪৯ ইউরো।

ফারমারস উইকলির তথ্যমতে, পণ্যভিত্তিক মূল্যের চিত্রে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে মোজারেলা পনিরের। পণ্যটির দাম ৬ শতাংশ কমে গড়ে দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৩ হাজার ৪৫৬ ইউরোয়। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে চেডার পনিরের। পণ্যটির দাম ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৩ হাজার ৫২৮ ইউরো হয়েছে। চেডারের এ বড় মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক সূচকের পতন কিছুটা ঠেকাতে সহায়তা করেছে। আফ্রিকান অঞ্চলের ক্রেতাদের আগ্রহের কারণেই চেডার পনিরের দামে এ উল্লম্ফন ঘটেছে। মাখনের দাম ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৪ হাজার ১২১ ইউরো হয়েছে।

এছাড়া ল্যাকটোজের দাম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৫৩ ইউরো হয়েছে। অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট (এএমএফ) বা দুগ্ধজাত বিশুদ্ধ চর্বির দাম কমেছে ৩ শতাংশ, টনপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৬৮ ইউরোয়।

নিউজিল্যান্ডের দুগ্ধ শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হোল মিল্ক পাউডার (ডব্লিউএমপি) বা পূর্ণ ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের দামও কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ। টনপ্রতি ডব্লিউএমপির মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৫৬৫ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে স্কিম মিল্ক পাউডার (এসএমপি) বা ননিছাড়া গুঁড়া দুধের দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৩ হাজার ৬৮৯ ডলার হয়েছে। বাটারমিল্ক পাউডারের দাম কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ।

জুলাই ও আগস্টে দুগ্ধপণ্যের দাম বাড়ার পর সর্বশেষ নিলামের ফলাফল বাজারে কিছুটা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে জানিয়েছে আইরিশ ফারমারস জার্নাল। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনের কারণে এ মিশ্র প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের দুগ্ধপণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ এখন এক রকম নয়। দুগ্ধের প্রোটিন ও হুইজাতীয় পণ্যের (পনির বা ছানা তৈরি করার পর ছেঁকে নেয়া তরল অংশ থেকে তৈরি দুগ্ধজাত পণ্য) চাহিদা তুলনামূলক বেশি। এ কারণে এসএমপির দাম কিছুটা বেড়েছে। বিপরীতে সাধারণ মিল্কফ্যাট বা চর্বিজাতীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমেছে। এ নিলামে এশিয়ার উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলো মূল কেনাকাটা সম্পন্ন করেছে।

এদিকে নিউজিল্যান্ডে শুরু হওয়া নতুন মৌসুমে দুধ উৎপাদন বাড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে উত্তর গোলার্ধের কয়েকটি অঞ্চলে খরা ও অতিরিক্ত গরমের কারণে দুধ উৎপাদনে কী প্রভাব পড়বে, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

নিউজিল্যান্ডে এল নিনোর আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে পশুখাদ্য ও খামার পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে। ডেইরি নিউজিল্যান্ডের হিসাবে, শক্তিশালী এল নিনো হলে প্রতি কেজি মিল্ক সলিডসে খামারের ব্যয় বেড়ে ৬ ডলার ৫৭ সেন্টে দাঁড়াতে পারে। খুব শক্তিশালী এল নিনো হলে তা ৬ ডলার ৭৮ সেন্টে পৌঁছতে পারে। এছাড়া ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে ভবিষ্যৎ সরবরাহ ও ব্যয় নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের দুগ্ধ কোম্পানি ফনটেরা ২০২৬-২৭ মৌসুমে প্রতি কেজি মিল্ক সলিডসের দাম ৯ ডলার ২৫ সেন্ট নির্ধারণের পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে বাজারে গুঁড়া দুধের চাহিদা শক্ত থাকায় রাবোব্যাংকের বিশ্লেষক এমা হিগিনস মনে করেন, দাম ১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।

আরও