২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে চায় সরকার। ব্যাংক খাত থেকেই এত বিপুল পরিমাণ ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রাপ্যতা কমে যাবে। ফলে বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ জটিলতায় পড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার (৩ জুন) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে বাজেট ঘোষণা পরবর্তী এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘প্রতিফলন, প্রতিক্রিয়া ও আগামীর পথচলা: জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬’ শিরোনামে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম মাশরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, সামগ্রিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা; ব্যাংক, জ্বালানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করা; রাজস্ব আয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও বেকারত্ব—মোটাদাগে এ চারটি পরিপ্রেক্ষিতে এবারের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটের আকার কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। এতে বাস্তবসম্মত উপায়ের প্রতিফলন দেখা গেলেও বেসরকারি খাতের জন্য উদ্যোগ রয়েছে। দেশীয় ব্যাংকগুলির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকুচিত করতে পারে, শেষ পর্যন্ত যা উচ্চ সুদহারের এ সময়ে বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে।
তিনি আরো বলেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে সরকারি ব্যয় ১২ শতাংশের আশপাশে ছিল। এ ধারা সরকারের সীমিত বিনিয়োগেরই প্রতিফলন। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর মধ্যে জিডিপি অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ব্যয় সবচেয়ে কম। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের সরকারি ব্যয় ছিল জিডিপির ১৩ শতাংশ, যেখানে নেপালে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ, লাওসে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ায় ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যয় ছিল। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সরকারের ব্যয় সামান্য বেড়ে ১৪ শতাংশ হলেও এটি দক্ষিণ এশিয়াসহ উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। উন্নত দেশগুলোর সরকারি ব্যয় সাধারণত জিডিপির ৩৫-৪০ শতাংশ থাকে।
এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী সময়ে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো এবং সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বানও জানান এ অর্থনীতিবিদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। অ্যামচেমের নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মইনুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব (করনীতি) মির্জা মোহাম্মদ মামুন সাদাত ও পিইবির মাশরুর রিয়াজ। প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে আগামী অর্থবছরের বাজেটকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ।