যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ওপর প্রভাব বিস্তারের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘অত্যন্ত গুরুতর বিপদ’ ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দে। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাকে খর্ব করলে তা যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ক্লাসিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টিন লাগার্দে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি ফেডের চেয়ার জেরোম পাওয়েল বা গভর্নর লিসা কুককে অপসারণ করেন, তবে তা ’মার্কিন অর্থনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুতর বিপদ’ হয়ে দেখা দেবে।
ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দে ছবি: রয়টার্স
ক্রিস্টিন লাগার্দে আরো বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতি আর স্বাধীন না থাকে এবং তা কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে এটি মার্কিন অর্থনীতির ভারসাম্যের পাশাপাশি গোটা বিশ্বের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ যুক্তরাষ্ট্র হলো বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি।’
ক্রিস্টিনা লাগার্দে বলেন, ‘ফেডের সুদহার সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা “অত্যন্ত কঠিন” হবে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক মাত্রায় সম্মানিত। আমি আশা করি [ট্রাম্পের] কাছেও আদালতের সম্মান থাকবে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এরই মধ্যে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে গুরুতর অসদাচরণ না ঘটলে ফেড গভর্নরকে বরখাস্ত করা যায় না।’
প্রসঙ্গত, মার্কিন মুদ্রানীতির অভিভাবক ফেডের চেয়ার হিসেবে জেরোম পাওয়েলকে নিয়োগ দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। এ পদে জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালে। তবে ফেডের সুদহার নীতি নিয়ে বিরোধ ট্রাম্প ও পাওয়েলের মধ্যে তিক্ততার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে জেরোম পাওয়েলকে ফেড চেয়ারের পদ থেকে বরখাস্তের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পাওয়েলকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, তিনি সুদহার যথেষ্ট মাত্রায় কমাননি।
ফেডের গভর্নরদের অন্যতম লিসা কুককেও অপসারণের চেষ্টা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে এ নিয়ে মার্কিন আদালতে মামলা চলছে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছতে পারে।
শুক্রবার আদালতে লিসা কুকের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, নোটিশ বা ‘কারণ’ ছাড়া ফেডের কোনো গভর্নরকে বরখাস্ত করা যায় না। তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্ট থেকে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্টের তাকে অপসারণের চেষ্টার কথা জানতে পারেন। লিসা কুককে বরখাস্তের আদেশ আইনি বৈধতা পেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন কাউকে তার জায়গায় মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ পাবেন। তবে লিসা কুক বলছেন, তাকে ফেডের গভর্নরের পদ থেকে অপসারণের কোনো এখতিয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেই।
অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঋণগ্রহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি সুদহার কমানোর জন্য ফেডের ওপর চাপপ্রয়োগ বাড়িয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া সম্প্রতি ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে ফেডের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন দিয়ে গত সপ্তাহেই বক্তব্য রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পকালীন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। আর্থিক বাজারে ধস ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় পদচ্যুত হয়েছিলেন তিনি।