প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট আবহাওয়াগত পরিস্থিতি ‘এল নিনো’ আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এর প্রভাবে এশিয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে খাদ্য সরবরাহ হ্রাস ও মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এল নিনো ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে।
ডব্লিউএমওর সর্বশেষ গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ প্রভাব অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। এর ফলে কোথাও তীব্র খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি হতে পারে, যা ফসলের ক্ষতি ও খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এশিয়ার কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পেছনে এটিই প্রধান কারণ।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোয় খাদ্যের দাম বাড়তে পারে। সংস্থাটির সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এর এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে শক্তিশালী এল নিনোর পরের বছর খাদ্যের দাম বাড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে পাম অয়েল, চিনি ও চালের বাজারে সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি রয়েছে।
এ পরিস্থিতি এশিয়ার অর্থনীতির জন্য তৈরি করছে বাড়তি উদ্বেগ। কারণ অঞ্চলটির দেশগুলো এরই মধ্যে উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। জ্বালানি, সার ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা চাপের মধ্যে রয়েছেন। এর সঙ্গে ফসলের উৎপাদন কমে গেলে খাদ্যের দাম আরো বাড়তে পারে।
উন্নয়নশীল এশিয়ার অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বিশ্লেষণে এডিবি জানিয়েছে, জ্বালানির বাজারে নতুন করে অস্থিরতা এবং শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। এর ফলে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসের তুলনায় দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কমতে পারে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে দশমিক ৯১ শতাংশীয় পয়েন্ট, যা মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ক্ষেত্রে দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে এল নিনোর সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যায়। ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে এ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। আগস্টে তা বেড়ে হয় ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি।
ডব্লিউএমওর প্রধান সেলেস্তে সাওলো জানান, সমুদ্রে জমে থাকা তাপ এখন বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।
এরই মধ্যে মধ্য আমেরিকার কয়েকটি অঞ্চলে খরায় ফসল নষ্ট হয়েছে। এশিয়ায় বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন কতটা তীব্র হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে খাদ্য সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়।