ভিয়েতনামে প্রধান মৌসুমের ফসল তোলার সময় ঘনিয়ে আসায় দেশটির বাজারে দাম কমছে কফির। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়াও এক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। তবে একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় কফির দাম বাড়ার পাশাপাশি রফতানির জন্য প্রস্তাবিত দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ভিয়েতনামের প্রধান কফি উৎপাদন অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসে কৃষকরা প্রতি কেজি কফি বিন বিক্রি করছেন ৮৮-৮৯ হাজার ডংয়ে, যা মার্কিন মুদ্রায় ৩ ডলার ৪০ থেকে ৩ ডলার ৪৪ সেন্ট। গত সপ্তাহে এ দাম ছিল ৯১ হাজার থেকে ৯২ হাজার ৫০০ ডং। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্যানুযায়ী, গত জুনের মাঝামাঝির পর দেশটিতে কফির দাম এখন সর্বনিম্ন।
আন্তর্জাতিক বাজারেও দাম কমেছে কফির। গত বুধবার জানুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে রোবাস্তা কফির মূল্য প্রতি টনে ২১ ডলার বা ১ শতাংশ কমে ৩ হাজার ১৯৯ ডলারে নেমেছে।
ভিয়েতনামে কফি তোলা শুরু হলেও বাজারে সরবরাহ এখনো সীমিত। সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসের এক ব্যবসায়ী জানান, আগামী মাসে সরবরাহ বাড়তে পারে। বছরের শুরুর দিকে প্রতিকূল আবহাওয়ায় কিছু কফি বিন আকারে ছোট ও রঙ গাঢ় হয়েছে।
অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, দাম কম থাকায় কৃষকরা দ্রুত কফি ফল সংগ্রহ ও শুকানোর কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য তিনি প্রতি কেজি কফির দাম ৮৩ হাজার ডং প্রস্তাব করেছেন।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা অঞ্চলের রোবাস্তা কফির দর বেড়েছে। এক ব্যবসায়ী নভেম্বরের চুক্তিমূল্যের চেয়ে প্রতি টনে ২২০ ডলার বেশি দামে কফি বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছেন। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ১৬৫-২০০ ডলার।
অন্য এক ব্যবসায়ী জানুয়ারির চুক্তিমূল্যের চেয়ে প্রতি টনে ৩০০ ডলার বেশি দাম চেয়েছেন। এক সপ্তাহ আগে এ ব্যবধান ছিল ২৩০ ডলার।
ফলে ভিয়েতনামে নতুন ফসল বাজারে আসার আগে দাম কমলেও ইন্দোনেশিয়ায় বাড়ছে। দেশের বাজারে সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভিন্ন পরিস্থিতিই দুই দেশের কফির দামে এ বিপরীত প্রবণতা তৈরি করেছে।