রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অনলাইন প্লাটফর্ম চারচা ডটকম।
বৈঠকে নতুন অর্থনৈতিক মডেলের তথ্য তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান সংকট মোকাবেলায় সরকার একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা।’ বিনিয়োগ বাড়াতে তিনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দেশীয় ও রফতানিমুখী শিল্পের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল পুনর্গঠন প্যাকেজ নিয়ে কাজ করছে।’ একই সঙ্গে কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের জন্য পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবার সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেন তিনি।
বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ব্যাংক এখন আর প্রকৃত উৎপাদক বা উদ্যোক্তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারছে কিনা, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। যাদের সহযোগী হয়েছে, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি আঁতাত (নেক্সাস) করে পুরো ব্যাংক গিলে খেয়েছে। ফলে বছরের পর বছর পরিশ্রম করে টিকে থাকা প্রকৃত উদ্যোক্তারা এখন বিরাট সংকটে পড়েছেন।’
মূল্যস্ফীতি অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘দাম বাড়ার কারণে চাহিদা কমেছে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা উৎপাদন কমিয়েছে। মূল্যস্ফীতি যত বাড়তে থাকবে, বিনিময় হারের তত ডিভ্যালুয়েশন হবে। কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
বৈঠকে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘সরকার বন্ধ কারখানা চালুর জন্য বিশেষ প্যাকেজের ঘোষণা করেছে; কিন্তু চলমান যেসব কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, সেগুলো আগে বাঁচানো দরকার।’
এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘বেসরকারি খাতের বিকাশ ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কর কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।’ তিনি করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন।
কৃষি খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করার আহ্বান জানিয়ে গবেষক ও অধিকারকর্মী মাহা মির্জা বলেন, ‘দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি হওয়া সত্ত্বেও কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি।’ তিনি কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ বর্তমান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানান।
বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন আইসিএমএবি সভাপতি কাউসার আলম ও নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চরচা সম্পাদক সোহরাব হাসান।