বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠিত

চীনা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর আহ্বান

উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলার। তবে এত বিশাল বাণিজ্য থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম শুরু করেনি।

চীনের শীর্ষ ব্যাংকগুলোর সামনে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর সুযোগ তুলে ধরতে বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে নিজেদের সদর দপ্তরে গতকাল এ আয়োজন করে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না।

অনুষ্ঠানে চীনের ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সম্পদের হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম চার ব্যাংকের তিনটি—ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (আইসিবিসি), এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না এবং ব্যাংক অব চায়না অংশগ্রহণ করে। এছাড়া অবকাঠামো ও প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস এবং কৃষিপ্রযুক্তি খাতের ২৬টি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানি এতে অংশগ্রহণ করে।

আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার—বাংলাদেশ-চায়না ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক মূল উপস্থাপনা পেশ করে।

উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলার। তবে এত বিশাল বাণিজ্য থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম শুরু করেনি। অথচ বাংলাদেশের চেয়ে বাণিজ্য কম থাকা সত্ত্বেও কম্বোডিয়া, শ্রীলংকা ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে চীনা ব্যাংকগুলো সফলভাবে সেবা দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাত, চট্টগ্রামে অবস্থিত ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) এবং মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিভিন্ন বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে চীনা কোম্পানি ও তাদের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে যুক্ত হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হলো আর্থিক সংযোগ স্থাপন। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহায়তার জন্য চীনা ব্যাংকগুলোর উপস্থিতি জরুরি। বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর প্রয়োজন প্রযুক্তি এবং ব্যবসা ও উৎপাদন বাড়ানোর উপযোগী অংশীদারত্ব। বাংলাদেশে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাড়লে দুই পক্ষই উপকৃত হতে পারে। এতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবে রূপ দেয়াও সহজ হবে।’

চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং বলেন, ‘একটি পলিসি ব্যাংক হিসেবে চায়না এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি ও উৎপাদন শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বর্তমানে প্রায় ৪০টি প্রকল্প পরিচালনা করছে। আগামীতে বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিগুলোকে সরাসরি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে, যা বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে নেটওয়ার্কিং পর্বে অংশগ্রহণকারী চীনা উদ্যোক্তা ও ব্যাংক প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, সহজ অর্থায়ন ও সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন।

আরও