ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে রফতানি ক্ষতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ থেকে এলএনজি কিনবে কাতারএনার্জি। দীর্ঘমেয়াদি এ চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে মুনাফা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবি।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি রফতানি বন্ধ থাকায় কাতারএনার্জির রাজস্বে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে সে ক্ষতি সামাল দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশ্বে মোট এলএনজি রফতানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে কাতার থেকে। দেশটির সব এলএনজি রফতানি হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবহন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের সঙ্গে গত দুই সপ্তাহে বছরে মোট ৭০ লাখ টন এলএনজি কেনার চুক্তি করেছে কাতারএনার্জি। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার উডসাইড এনার্জির সঙ্গে ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনা থেকে বছরে ৩০ লাখ টন এলএনজি কিনবে কাতারএনার্জি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের চেনিয়ার এনার্জির সঙ্গে দুটি চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০৫৪ সাল পর্যন্ত এসব চুক্তির আওতায় বছরে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টন এলএনজি কেনা যাবে এবং সরবরাহ শুরু হবে ২০৩১ সালে।
কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী আল-কাবি জানান, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উৎপাদকদের সঙ্গে আরো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। ২০-২৫ বছর মেয়াদি এসব চুক্তির আওতায় এলএনজি কেনার লক্ষ্যমাত্রা ৭০ লাখ টনের চেয়ে অনেক বেশি। এ বিষয়ে ভেঞ্চার গ্লোবালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলমান।
এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো কম দামের বাজার থেকে গ্যাস কিনে বেশি দামের বাজারে বিক্রি করা। যেমন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক কম দামে এলএনজি কিনে ইউরোপে বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে কাতারএনার্জি। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার সুযোগও কাজে লাগাতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।
এজন্য কাতারএনার্জির প্রায় ২০০টি এলএনজিবাহী জাহাজ এবং নিজস্ব গ্যাস বাণিজ্য কার্যক্রমকে কাজে লাগানো হবে। আল-কাবি বলেন, ‘নতুন এ কৌশলে বড় ধরনের মূলধনি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। নতুন পাইপলাইন বা এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের তুলনায় এটি অনেক সাশ্রয়ী।’
তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনার ১৪টি উৎপাদন ইউনিটের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বছরে ১২৮ লাখ টন এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতে প্রায় তিন বছর লাগবে বলে জানিয়েছেন আল-কাবি। এ ক্ষতির কারণে বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের রাজস্ব হারাতে পারে কাতারএনার্জি। এদিকে উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ৭ কোটি ৭০ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে নেয়ার পরিকল্পনা অপরিবর্তিত রয়েছে।