ভিয়েতনামে গত সপ্তাহে দাম বেড়েছে রোবাস্তা কফির। দেশটির প্রধান কফি উৎপাদন অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসে নতুন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বাজারে কেনাবেচা এখনো খুব কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসের কৃষকরা গত সপ্তাহে প্রতি কেজি রোবাস্তা কফি প্রায় ৩ ডলার ৬৩ থেকে ৩ ডলার ৬৭ সেন্ট (৯৪-৯৫ হাজার ডং) দরে বিক্রি করছেন। আগের সপ্তাহে দাম ছিল ৯১ হাজার ২০০ থেকে ৯২ হাজার ডং। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কফির দাম বেড়েছে প্রায় তিন থেকে চার হাজার ডং।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারি বৃষ্টির কারণে কফি উৎপাদন এলাকায় বন্যা হতে পারে। এতে কফির ফলন ও সংগ্রহের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নতুন মৌসুমের কফি বাজারে আসার সময় নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ল্যাম ডং প্রদেশের নিচু এলাকার কিছু কৃষক জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত রোদ থাকায় তারা আগামী মাসেই কফি সংগ্রহ শুরু করতে পারেন। তবে ব্যবসায়ীদের ধারণা, নতুন ফসলের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরবরাহ বাজারে আসবে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান রোবাস্তা কফি উৎপাদনকারী দেশ ভিয়েতনাম। তাই দেশটির নতুন ফসল বাজারে কখন এবং কী পরিমাণে আসবে, সেদিকে নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। সরবরাহে দেরি হলে কফির দামে আরো ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক বাজারে অবশ্য দাম কমেছে কফির। গত বুধবার নভেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে রোবাস্তা কফির দাম প্রতি টন ২৬ ডলার কমে ৩ হাজার ৪৪৬ ডলারে নেমেছে। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারের লেনদেন এখন মূলত জানুয়ারির সরবরাহ চুক্তিতে চলে গেছে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ায় সুমাত্রার রোবাস্তা কফির সংযোজিত মূল্য বা প্রিমিয়াম স্থির রয়েছে। নভেম্বরের চুক্তির তুলনায় প্রতি টনে ৩০০ ডলার বাড়তি দামে এসব কফি বিক্রির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও একই প্রিমিয়াম ছিল। আরেক ব্যবসায়ী অক্টোবরের চুক্তির তুলনায় ২০০ ডলার প্রিমিয়ামে কফি বিক্রির কথা জানিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রধান উৎপাদন অঞ্চল ল্যাম্পুংয়ের কৃষকরা অবশ্য পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে ফসলের বিকাশ ধীরগতির বলে জানিয়েছেন। ফলে ভিয়েতনামে অতিবৃষ্টি ও ইন্দোনেশিয়ায় বৃষ্টির ঘাটতি—দুই ধরনের আবহাওয়াগত ঝুঁকিই রোবাস্তা কফির বৈশ্বিক সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।