সবজি রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের সবজি রফতানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এ সময় মোট রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়লেও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন এ খাতের রফতানিকারকরা।

রফতানিসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী তাজা সবজির চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষ করে করলা, লাউ, পটোল, ঢেঁড়স, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়মিত রফতানি হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় খাদ্যাভ্যাসের কারণে এসব পণ্যের বাজার বিস্তৃত হচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশ থেকে ৫ কোটি ৭৭ লাখ ডলার মূল্যের সবজি রফতানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতের রফতানি আয় ছিল ৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। তবে এ প্রবৃদ্ধির মধ্যেও রফতানিকারকদের বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পরিবহন ব্যয় নিয়ে। আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ ভাড়া এবং কার্গো চার্জ বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই রফতানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দ্রুত পচনশীল এমন কৃষিপণ্য হওয়ায় অধিকাংশ সবজি আকাশপথে পাঠাতে হয়। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক আমদানিকারকই এখন ভিন্ন দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করছেন।

তাজা শাক-সবজি, ফলসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালায়েড প্রডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফভিএপিইএ)। সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোবাশ্বের আহমেদ জুয়েল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে এমনিতেই কৃষিপণ্য রফতানিতে সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুইবার বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। প্রথম দফায় মূল্যবৃদ্ধির পর আমদানিকারকরা অন্য দেশে পণ্য খোঁজা শুরু করেছিল। আমরা তাদের বিষয়টি বোঝানোর মধ্যে থাকতেই আরেক দফা ভাড়া বেড়েছে। তাহলে কেন এখন তারা আমাদের কাছ থেকে পণ্য নিতে চাইবে?’

বিএফভিএপিইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘যে পণ্য পাঠাতে আগে খরচ হতো ৪ ডলার ১৫ সেন্ট, প্রথম দফায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৪ ডলার ৬৫ সেন্টে। আর দ্বিতীয় দফায় মূল্যবৃদ্ধির ফলে তা বেড়ে হয় ৪ ডলার ৮৫ সেন্ট। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে ইউরোপমুখী পণ্য পরিবহনে বিমান সংস্থাগুলোকে কার্গোর জন্য কেজিপ্রতি ২ ডলারের মতো দিতে হতো, বর্তমানে সেখানে এক কেজি পণ্য পরিবহনে ব্যয় হচ্ছে ৫ ডলার ৫০ সেন্ট থেকে ৬ ডলার পর্যন্ত।’

রফতানিকারকরা বলছেন, সবজির বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী হয়ে উঠছে ভারত ও মালয়েশিয়া। মাত্র দুইদিনের ব্যবধানেই দেশগুলো সবজি পৌঁছে দিতে পারে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। এ অবস্থায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবহন ব্যয় কমানো না গেলে ভবিষ্যতে এ খাতের রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

আরও