বিশ্ববাজারে আগস্টে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ। গত সাত মাসে এটি ছিল সবচেয়ে বড় মাসিক উত্থান। যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি কমে আসা, মার্কিন ট্রেজারির দীর্ঘমেয়াদি বন্ড পুনঃক্রয় (বাইব্যাক) কর্মসূচির বিস্তার, দুর্বল কর্মসংস্থান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বেড়েছে স্বর্ণের চাহিদা। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
আন্তর্জাতিক বাজারে আগস্টের শেষে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৪৪৯ ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ড পুনঃক্রয়ের কার্যক্রম বাড়িয়েছে। এতে সুদহার বাড়ার প্রত্যাশা কমে গেছে। পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণের প্রতি বেড়েছে আগ্রহ।
চলতি বছরের শুরুতে স্বর্ণের দাম বেশ দ্রুত বেড়েছিল। জানুয়ারিতে দাম ১২ দশমিক ৪ ও ফেব্রুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ে। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। মার্চে স্বর্ণের দাম ১১ দশমিক ৩ শতাংশ, এপ্রিলে ১, মে মাসে ১ দশমিক ৮ ও জুনে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে। জুলাইয়ে অবশ্য দাম দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ে।
ফিউচার ও পণ্যবাজার বিশেষজ্ঞ জাফের এরগেজেন আনাদোলুকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ ক্রয়ও দাম বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
তিনি বলেন, ‘আগস্টে বিশ্বের বড় কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বড় অংকের স্বর্ণ ক্রয় করে। এর মধ্যে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নাই (পিবিওসি) ১৯ টন স্বর্ণ কেনে। সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এ ধরনের কেনাকাটা অব্যাহত থাকতে পারে।’
এরগেজেন আরো বলেন, ‘আগস্টে ডলার, সরকারি বন্ডের সুদ ও জ্বালানি তেলের দাম তেমন একটা কমেনি। এটি স্বর্ণের দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বাজারে প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।’
এদিকে আগস্টে রুপার দামও ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৫ ডলারে উঠেছে। সাত মাসের মধ্যে রুপার দরবৃদ্ধির হারও ছিল সবচেয়ে বেশি।